
নির্বাচনের মুখে প্রশাসনিক মহলে বড়সড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের এডিজি সিআইডি তথা কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে হঠাৎই তামিলনাড়ুতে পাঠানো হল নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুর তিরুনেলভিলি জেলায় পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য পুলিশ অবজারভার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রতিম সরকার। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজরদারি, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন, এবং ভোটের নিরাপত্তা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় তাঁর তত্ত্বাবধানেই থাকবে। কমিশনের তরফে তাঁকে দ্রুত দায়িত্ব গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যা এই পদক্ষেপের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে তুলছে।
প্রসঙ্গত, এর আগে এই দায়িত্বে নিয়োগ করা হয়েছিল প্রাক্তন ডিসি (সেন্ট্রাল) ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়কে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব নিতে অপারগতা জানান। এরপরই কমিশন দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর পরিবর্তে সুপ্রতিম সরকারকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পাঠায়।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই একাধিক প্রশাসনিক রদবদল করেছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রসচিব এবং বিভিন্ন স্তরের পুলিশ আধিকারিকদের বদলি করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ নিয়ে একাধিকবার আপত্তি জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তবে কমিশন তাদের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে।
এদিকে, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর-সহ রাজ্যের একাধিক থানার ওসিকে বদলি করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজ্যের প্রায় ২৬৭ জন আধিকারিকের বদলির সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের হয়েছে। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই মামলার শুনানির অনুমতিও দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কড়া হাতে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। সেই কারণেই অভিজ্ঞ ও নিরপেক্ষ আধিকারিকদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠানো হচ্ছে। সুপ্রতিম সরকারের মতো একজন অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিককে তামিলনাড়ুর মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে দায়িত্ব দেওয়া, সেই কৌশলেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটের আগে কমিশনের এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এখন দেখার, এই পদক্ষেপ নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কী প্রভাব ফেলে এবং রাজ্য রাজনীতিতে এর প্রতিক্রিয়া কতটা গভীর হয়।
