
কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের ভবানীপুর কেন্দ্রীয় সাংসদীয় আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি থাকা অবস্থায় ভবানীপুরে সামাজিক ও রাজনৈতিক সহিংস পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কারণে জেলা পুলিশে বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন চলে। অমিত শাহের রোড শো ও পথসভা নিয়ে গত ২ এপ্রিল ভবানীপুরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে যে ব্যর্থতা দেখা দেয়, তার জেরে নির্বাচনী তৎপরতা শুরুর পর থেকে একের পর এক পুলিশ ও প্রশাসনিক কর্তার বদলি এবং সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
শনি বার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের একটি সিদ্ধান্তে ভবানীপুরের সাউথ ডিভিশনের ডিসি–২ সিদ্ধার্থ দত্ত, আলিপুর থানার ওসি প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী, অতিরিক্ত ওসি চণ্ডীచরণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আলিপুর থানার সার্জেন্ট সৌরভ চট্টোপাধ্যায়কে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এই চারজনকে বরখাস্ত করার একাধিক কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে কর্তব্য পালনে গাফিলতি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড় ধরনের খামতির বিষয়টি। দর্শকদের এবং সাধারণ জনতার সামনে প্রশ্ন উঠেছে, যেখানে একজন কেন্দ্রীয় মানের রাজনীতিক এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন, সেখানে কীভাবে এমন বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো এবং পুলিশ প্রশাসন কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলো তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২ এপ্রিল শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার দীর্ঘ রোড শোয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী দলের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। রোড শো–এর সময় শাহের কনভয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত বাড়ির নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এক পর্যায়ে কনভয়টি থামতে বাধ্য হয় এবং নিরাপত্তার কারণে অমিত শাহকে একটি ছোট গাড়িতে উঠে অন্য পথে নিয়ে যেতে হয়।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই ঘটনার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকেই দায়ী করে বলেন, “রাজ্যের নির্বাচন চলাকালীন কোনোভাবেই এমন ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হওয়া উচিত নয়।” বিজেপি পক্ষের দাবি, “স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সঠিকভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।”
এদিকে, নির্বাচন কমিশনের এই বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে কিছু বিশ্লেষক নির্বাচনী পরিবেশে প্রভাব ফেলতে পারে এমন একটি কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন। বলছেন, “সহিংস পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তা ব্যর্থতার জন্য কমপক্ষে যারা দায়িত্বে ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফের আস্থা তৈরি করা হয়েছে।”
স্থানীয় সাধারণ মানুষ এই ঘটনা ও বরখাস্তের খবরকে সামনে রেখে ভাবছেন, ভোটের পরিবেশ কতটুকু শান্তিপূর্ণ থাকবে এবং আগামী দিনে কোনও বিরোধী সংঘর্ষ আবার কি হতে পারে। এখন ভবানীপুরে রাজনৈতিক পরিবেশ নজর রেখে নির্বাচন आयोग ও রাজ্য প্রশাসন অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও দৃঢ় করছে বলে জানানো হয়েছে।
