
পশ্চিম এশিয়ায় Iran-কে ঘিরে সংঘাত এবং Hormuz Strait বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাব এখন গোটা বিশ্বে স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তৈরি হয়েছে তীব্র জ্বালানি সঙ্কট। এর জেরে বিপাকে পড়েছে আমদানিনির্ভর দেশগুলি, বিশেষ করে India-র মতো অর্থনীতি।
বিশ্বজুড়ে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক দেশ নানা ধরনের কৌশল নিয়েছে। কোথাও কর ছাড়, কোথাও সরাসরি ভর্তুকি, আবার কোথাও বিকল্প জ্বালানির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। মূল লক্ষ্য একটাই, নাগরিকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ কমানো এবং জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা।
South Korea জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা শিথিল করেছে। পাশাপাশি পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে China অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে পরিশোধিত জ্বালানি রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং জরুরি মজুত ব্যবহার করছে।
Australia নিজেদের মজুত থেকে জ্বালানি ছেড়ে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। একইভাবে Japan কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের নিয়ম শিথিল করার পাশাপাশি অতিরিক্ত এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপে European Union বিদ্যুৎ কর কমানো এবং গ্রিড ফি হ্রাস করে নাগরিকদের স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে প্রতিবেশী Bangladesh জ্বালানি আমদানির জন্য বিদেশি তহবিল সংগ্রহের পাশাপাশি ভারতের কাছ থেকে ডিজেল নিচ্ছে।
লাতিন আমেরিকার Argentina জ্বালানির উপর কর সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। Brazil ডিজেলে কর কমানোর পাশাপাশি নতুন ভর্তুকি নীতি গ্রহণ করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় Indonesia বায়োডিজেল ব্যবহারে জোর দিচ্ছে, আর Malaysia পেট্রলে ভর্তুকি বাড়িয়েছে। Vietnam ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহারের দিকে দ্রুত এগোচ্ছে।
এদিকে South Africa সাময়িকভাবে জ্বালানি লেভি কমিয়েছে, আর Greece ভর্তুকি ও পরিবহণ খরচে ছাড় দিয়ে নাগরিকদের সহায়তা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বহুমুখী পদক্ষেপ প্রমাণ করছে যে জ্বালানি সঙ্কট এখন শুধু একটি আঞ্চলিক সমস্যা নয়, বরং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বিভিন্ন দেশকে।
হরমুজ সঙ্কটের জেরে তৈরি হওয়া এই জ্বালানি সংকট বিশ্বকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে, জ্বালানির বিকল্প উৎস এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নীতির দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়াই এখন সময়ের দাবি।
