
মালদহের কালিয়াচকে বিচারকদের ঘিরে বিক্ষোভ ও অবরুদ্ধ থাকার ঘটনায় নতুন মোড়। ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পর প্রকাশ্যে এল সাতজন বিচারক তথা জুডিশিয়াল অফিসারের লেখা একটি গুরুত্বপূর্ণ চিঠি, যা এই ঘটনাকে ঘিরে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে। চিঠিটি ঘটনাটির ঠিক সাত দিন আগে জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
চিঠির বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এই ঘটনা কোনও আকস্মিক বিস্ফোরণ ছিল না, বরং তার আগাম ইঙ্গিত মিলেছিল। বিচারকরা তাঁদের চিঠিতে স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং যেকোনও সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অফিস চত্বরে নিরাপত্তার ঘাটতি নিয়ে তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি নিরাপত্তা জোরদারের আবেদনও জানানো হয়েছিল।
উল্লেখযোগ্যভাবে, চিঠিতে বলা হয়েছিল যে, স্থানীয় পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং বিচারিক কাজকর্ম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিচারকদের আশঙ্কা ছিল, কোনওদিন বড় ধরনের অশান্তি সৃষ্টি হতে পারে। সেই আশঙ্কাই বাস্তবে পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন অনেকেই।
ঘটনার দিন প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা ধরে বিডিও অফিসে আটকে রাখা হয় ওই সাত বিচারককে, যাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা ছিলেন। এই ঘটনা শুধু রাজ্য নয়, গোটা দেশের বিচারব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ, যা বিষয়টির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে প্রশ্ন উঠছে, বিচারকদের আগাম সতর্কবার্তা পাওয়ার পরেও কেন প্রশাসনের তরফে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হল না? জেলাশাসকের দপ্তর এই চিঠি পাওয়ার পর কী পদক্ষেপ নিয়েছিল, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি ইতিমধ্যেই এই ইস্যুতে রাজ্য সরকারকে তীব্র আক্রমণ শুরু করেছে।
এই ঘটনা বিচারকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার বড়সড় ফাঁক তুলে ধরেছে। বিচারব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের যদি এভাবে অনিরাপত্তার মধ্যে পড়তে হয়, তবে তা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য উদ্বেগজনক।
কালিয়াচক কাণ্ড এখন শুধুমাত্র একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়, বরং প্রশাসনিক দায়বদ্ধতা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিচারব্যবস্থার মর্যাদা, এই তিনটির ওপরই বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর গোটা রাজ্যের।
