
নির্বাচনের আবহে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল Kolkata। সিইও দফতরের সামনে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের সংঘর্ষ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়াল শহরে। ঘটনায় ইতিমধ্যেই একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ, যেখানে দুই কাউন্সিলর-সহ একাধিক ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, হেয়ার স্ট্রিট থানায় দু’টি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে সিইও অফিস চত্বরে ফর্ম ৬ জমা দেওয়া নিয়ে শুরু হয় তর্কাতর্কি। ধীরে ধীরে তা বাগবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতিতে পৌঁছয়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়। পাল্টা তৃণমূল কর্মীরাও আক্রমণের মুখে পড়েন। পরিস্থিতি ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। দীর্ঘক্ষণ ধরে উত্তেজনা চলতে থাকায় শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের নামাতে হয়। তাঁদের হস্তক্ষেপেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রথম মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় মামলায় সরাসরি নাম জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই কাউন্সিলর সচিন সিংহ ও শান্তি রঞ্জন কুণ্ডু। পাশাপাশি বিএলও মঞ্চের মইদুল ইসলাম-সহ মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই দুই মামলার ভিত্তিতে এখনও পর্যন্ত ১৮ জনকে প্রিভেন্টিভ অ্যারেস্ট করা হয়েছে। এছাড়া ১২ জনকে নোটিস পাঠিয়ে থানায় তলব করা হয়েছে।
এদিকে একই সময়ে রাজ্যের অন্য রাজনৈতিক কর্মসূচিকেও ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। Suvendu Adhikari-র মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-এর রোড শো ঘিরেও অশান্তির ঘটনা সামনে এসেছে। সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই আলিপুর ও কালীঘাট থানায় মোট তিনটি এফআইআর দায়ের হয়েছে।
ভোটের মুখে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনায় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ধরনের সংঘর্ষ নির্বাচনের আগে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। তবে পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
