
কলকাতা: শনিবার বেলা একটায় কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হঠাৎ চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বিভাগের একজন মানসিক ভারসাম্যহীন রোগী আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় হাসপাতাল চত্বরে ভাঙচুর শুরু করেন। এতে কয়েক মিনিটের জন্য হাসপাতালের পরিবেশ অশান্ত হয়ে ওঠে এবং রোগী, পরিজন ও উপস্থিত অন্যরা আতঙ্কিত হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোগীটি মনোরোগ বিভাগের ২০৮ নম্বর কক্ষে ভর্তি ছিলেন। চিকিৎসকের প্রাথমিক অনুমান, ওষুধের ডোজ অতিরিক্ত হওয়ায় এবং রোগী নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ না করার কারণে আচরণ অস্থির হয়। তিনি শনিবার আউটডোরে দেখানোর জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন, কিন্তু মানসিক অবস্থার কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভর্তি করার সিদ্ধান্ত নেন। ভর্তি হওয়ার পরই তার আচরণ অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে এবং ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
ভাঙচুরের খবর পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং শেষপর্যন্ত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এই প্রক্রিয়ায় উপস্থিত স্থানীয় পুলিশও সাহায্য করে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরে নিশ্চিত করে, সবকিছু শান্ত হয়েছে।
যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ঘটনার পর হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল চত্বরে এমন ঘটনা রোগী ও সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং ভবিষ্যতে পুনরায় এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
চিকিৎসকরা জানান, মানসিক স্বাস্থ্য সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ এবং ওষুধ নিয়মিত দেওয়া না হলে এমন অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আরও বলেন, রোগী ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত ওষুধ ও আচরণ পর্যবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সতর্ক করেছেন, সকল রোগী ও দর্শকদের শান্তি বজায় রাখতে এবং রোগীদের আচরণ মনিটর করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
