
পুরুলিয়ার মানবাজার বিধানসভা কেন্দ্রে এদিন যেন উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসের মনোনয়ন জমাকে ঘিরে। বর্ণাঢ্য মিছিল, ঢোল-ধামসার তালে তালে এগিয়ে চলা হাজারো কর্মী-সমর্থক সব মিলিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পরিণত হয় জনসমাগমের এক বিশাল প্রদর্শনীতে।
আজ মানবাজার বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সন্ধ্যারানী টুডু এবং বান্দোয়ানের বিদায়ী বিধায়ক তথা পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রাজিব লোচন সোরেন স্বস্ত্রীক মানবাজার মহকুমা শাসকের কার্যালয়ে মনোনয়ন জমা দেন।
এদিনের কর্মসূচির সূচনা হয় মানবাজারের ইঁদকুড়ি মোড় থেকে। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বর্ণাঢ্য মিছিল। মিছিলের অগ্রভাগে ছিল ঢোল ও ধামসার বাদ্য, যা আদিবাসী সংস্কৃতির ঐতিহ্যকে তুলে ধরে। রঙিন পতাকা, দলীয় প্রতীক এবং স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। পথে পথে সাধারণ মানুষও এই মিছিলে অংশ নেন বা দাঁড়িয়ে দেখেন এই শক্তিপ্রদর্শন।
মিছিল মানবাজার মহকুমা শাসকের দফতরে পৌঁছালে দুই প্রার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন। এই পুরো প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দলীয় কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ছিল জয়ের দৃঢ় আত্মবিশ্বাস, যা তাদের স্লোগান এবং আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
মনোনয়ন জমা দেওয়ার পর দুই প্রার্থীই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজেদের বক্তব্য রাখেন। সন্ধ্যারানী টুডু জানান, গত কয়েক বছরে রাজ্য সরকার পশ্চিমাঞ্চলসহ মানবাজারে যে উন্নয়নমূলক কাজ করেছে, তা মানুষের কাছে পৌঁছেছে এবং তার ফলেই মানুষের সমর্থন তাদের দিকে রয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের জয় ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। মানুষ উন্নয়নের পক্ষেই ভোট দেবেন।”
অন্যদিকে রাজিব লোচন সোরেনও একই সুরে বলেন, বান্দোয়ান এবং আশপাশের এলাকায় রাস্তা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং পানীয় জলের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। তিনি আশ্বাস দেন, যে সমস্ত কাজ এখনও অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলিও আগামী দিনে দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
মানবাজারে এদিনের এই মনোনয়ন পর্ব শুধু একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নয়, বরং তা পরিণত হয় রাজনৈতিক শক্তি ও সংগঠনের এক জোরালো প্রদর্শনীতে, যা আসন্ন নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করল।
