
ইরানকে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের ভিতরেই তাঁর বক্তব্যকে ‘যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করছেন মানবাধিকার কর্মী, বুদ্ধিজীবী ও সাধারণ নাগরিকদের একাংশ। ইতিমধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ ও মিছিল ক্রমশ জোরদার হচ্ছে।
অভিযোগ, ইরান-কে উদ্দেশ্য করে ট্রাম্প একাধিকবার উসকানিমূলক মন্তব্য করেছেন। যুদ্ধ শুরুর পর তিনি বলেন, “ইরান নিয়ে আমি যা খুশি তাই করতে পারি।” এমনকি ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া’ এবং তাদের পানীয় জল শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার হুমকিও দিয়েছেন। এই ধরনের মন্তব্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন এবং যুদ্ধনীতি লঙ্ঘনের ইঙ্গিত বহন করে বলেই মনে করছেন সমালোচকেরা।
এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন ও ইজরায়েলি বাহিনী ইরানের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যার মধ্যে হাসপাতালও রয়েছে। এই প্রেক্ষিতে একাধিক মার্কিন মানবাধিকার সংগঠন ও বিশিষ্ট ব্যক্তি একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন, যেখানে ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্য ও পদক্ষেপকে সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত প্রমাণ ছাড়াই গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ও ইজরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে। বিশেষ করে যুদ্ধের প্রথম দিনেই একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলার ঘটনায় বহু সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী গুরুতর অপরাধ।
এই খোলা চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন একাধিক খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও মানবাধিকার কর্মী। হার্ভার্ড, ইয়েল, স্ট্যানফোর্ড ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা ছাড়াও মানবাধিকার সংস্থা ও আইন বিশেষজ্ঞরাও এতে অংশ নিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাষ্ট্রসংঘের সনদ ও জেনেভা কনভেনশনের মৌলিক নীতিগুলি এই যুদ্ধে লঙ্ঘিত হচ্ছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল আকার নিচ্ছে। ইরানের পাল্টা হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হওয়ার খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে ঘিরে কটাক্ষ করেছেন ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও। তারা দাবি করেছে, যারা ইরানের শাসনব্যবস্থা বদলের হুমকি দিয়েছিল, তারাই এখন নিজেদের সেনাদের বাঁচাতে হিমশিম খাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, ইরান-আমেরিকা সংঘাত এখন শুধু সামরিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নৈতিক প্রশ্নেও বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে দেশের ভিতরেই যে চাপ বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
