
হুগলির শ্রীরামপুর ও উত্তরপাড়া কেন্দ্রকে ঘিরে এবার রাজনৈতিক উত্তাপ নতুন মোড় নিল টুম্পা মেটেকে কেন্দ্র করে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের প্রচারে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ, যার জেরে সোশ্যাল মিডিয়াতেও বাড়ছে চাপানউতোর।
কে এই টুম্পা মেটে? তিনি হুগলি জেলা পরিষদের প্রাক্তন তৃণমূল সদস্য এবং রিষড়ার বাসিন্দা। ২০১৬ সালের প্যানেলে অশিক্ষক কর্মচারী হিসেবে চাকরি পান তিনি। তবে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর চাকরি বাতিল হয়ে যায়। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করেই এবার রাজনৈতিক ময়দানে সরব হয়েছে বিজেপি।
সম্প্রতি দেখা গেছে, শ্রীরামপুর ও উত্তরপাড়ার তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় প্রচারে অংশ নিচ্ছেন টুম্পা মেটে। সেই ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করে তৃণমূলকে কটাক্ষ করেছে বিজেপি কর্মীরা। শুধু কটাক্ষই নয়, সাধারণ মানুষকে ‘সাবধান’ থাকার বার্তাও দেওয়া হয়েছে ওই পোস্টে।
শ্রীরামপুরের বিজেপি প্রার্থী ভাস্কর ভট্টাচার্য এই প্রসঙ্গে কড়া ভাষায় বলেন, “চোর আর তৃণমূল সমার্থক হয়ে দাঁড়িয়েছে।” অন্যদিকে বিজেপি কর্মী পরাগতরু মিত্র আরও একধাপ এগিয়ে দাবি করেন, “পশ্চিমবঙ্গের মানুষ জানে টুম্পা মেটে কীভাবে টাকা দিয়ে চাকরি পেয়েছিল। এখন তাকে তৃণমূল প্রার্থীদের সঙ্গে প্রচারে দেখা যাচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে তৃণমূল চোরেদের দল।” তিনি আরও জানান, সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যেই এই বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা হয়েছে।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে তৃণমূল। শ্রীরামপুরের তৃণমূল প্রার্থী তন্ময় ঘোষ পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন, “শ্রীরামপুরে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছে কে—টুম্পা মেটে না তন্ময় ঘোষ? আমার বিরুদ্ধে যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তা সরাসরি বলা হোক।”
তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি ভয় পেয়েই এই ধরনের প্রচার চালাচ্ছে। তাঁর কথায়, “আমাদের জনসংযোগ কর্মসূচিতে যে বিপুল মানুষের সমাগম হচ্ছে, তাতেই বিজেপি চিন্তিত। তাই তারা নানা কৌশল অবলম্বন করছে। কে কোথায় কী করেছে, তার দায় প্রার্থীর বা দলের নয়।”
টুম্পা মেটেকে ঘিরে এই বিতর্ক শ্রীরামপুরের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচনের আগে এই ইস্যু কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
