
আসন্ন ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজ্যে ভোট প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই লক্ষ্যেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজকুমার আগরওয়াল শনিবার থেকে শুরু করছেন জেলায় জেলায় পরিদর্শন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হল ভোটের প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রয়েছে কি না তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখা এবং প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া।
প্রথম পর্যায়ে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা দিয়ে তাঁর সফর শুরু হচ্ছে। সেখানে জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ভোট পরিচালনার সামগ্রিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বুথ পরিচালনা এবং কমিশনের গাইডলাইন কতটা মেনে চলা হচ্ছে তা খতিয়ে দেখবেন তিনি। পরবর্তী সময়ে অন্যান্য জেলাতেও একইভাবে পরিদর্শন চালাবেন বলে জানা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। ইতিমধ্যেই রাজ্যে আদর্শ আচরণবিধি চালু হয়েছে এবং জোরকদমে চলছে নির্বাচনী প্রচার। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতেও শুরু করেছেন। দীর্ঘদিন পর তুলনামূলক কম দফায় নির্বাচন হওয়ায় কমিশনের উপর চাপও অনেকটাই বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে অবাধ, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ করতে একাধিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন। অন্যান্য বারের তুলনায় এ বার কয়েক গুণ বেশি সংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। পাশাপাশি মোতায়েন করা হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং সিসিটিভি নজরদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে ভোটারদের বাইরে ফোন জমা রেখে তবেই কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে।
কমিশনের নির্দেশাবলী বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, কোথাও কোনও ত্রুটি রয়ে গিয়েছে কি না, তা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতেই মনোজকুমারের এই জেলা সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক কিছু অশান্তির ঘটনার পর কমিশন আরও সতর্ক হয়েছে।
মালদহে এসআইআর-কে কেন্দ্র করে বিচারকদের আটকে বিক্ষোভের ঘটনায় ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত বিষয়টি গড়িয়েছে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এরপরই মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন এবং একাধিক ঘটনায় প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সেই বৈঠকের পরপরই সিইও-র এই তৎপরতা কমিশনের কড়া বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল ভোট প্রক্রিয়ায় কোনওরকম গাফিলতি বরদাস্ত করা হবে না, এবং স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
