
রাজ্য রাজনীতিতে ফের তীব্র বাকযুদ্ধের আবহ তৈরি হল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-কে সরাসরি নিশানা করে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক Abhishek Banerjee। তাঁর প্রশ্ন, “কোন শিল্পপতিকে বাঁচাতে হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে?”—এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় চিন্ময় প্রভুকে নিয়েও কেন্দ্রের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, সংখ্যালঘু ও ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিজেপি দ্বিচারিতা করছে এবং রাজনৈতিক সুবিধা অনুযায়ী অবস্থান বদল করছে। এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি বিজেপির নীতি ও অবস্থান নিয়ে সরব হন।
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার বিভিন্ন ইস্যুতে স্বচ্ছ অবস্থান নিচ্ছে না এবং কিছু ক্ষেত্রে কর্পোরেট স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতেই এই প্রশ্ন তোলা হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। অভিষেকের বক্তব্য অনুযায়ী, দেশের জনগণের সামনে বিষয়গুলি পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন এবং কেন্দ্রকে জবাবদিহি করতে হবে।
অন্যদিকে বিজেপির তরফে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। দলের নেতাদের বক্তব্য, রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক থাকতে এবং নির্বাচনের আগে প্রচারের আলোয় থাকতে এমন মন্তব্য করা হচ্ছে। তাঁদের মতে, বাস্তব কোনও তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এই ধরনের অভিযোগ তোলা দায়িত্বজ্ঞানহীন।
এই ঘটনার জেরে রাজনৈতিক তরজা আরও তীব্র হয়েছে। একদিকে তৃণমূল কংগ্রেস কেন্দ্রের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নিচ্ছে, অন্যদিকে বিজেপি পাল্টা জবাব দিচ্ছে। ফলে ভোটের আগে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।
এই ধরনের মন্তব্য ও পাল্টা মন্তব্য নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষ করে যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট যুক্ত থাকে, তখন সেই ইস্যু দ্রুতই বড় রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়।
হাসিনা ইস্যু থেকে শুরু করে চিন্ময় প্রভুকে ঘিরে বিতর্ক, একাধিক প্রসঙ্গকে সামনে এনে বিজেপিকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছে তৃণমূল। আর তার পাল্টা জবাবে বিজেপিও আক্রমণ শানাচ্ছে। নির্বাচনের মুখে এই সংঘাত যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।
