
আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে বড় রাজনৈতিক ধাক্কা খেলেন রাজ্যের প্রাক্তন বিধায়ক Humayun Kabir। তাঁর গড়া আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট ভেঙে দিল AIMIM। দলের প্রধান Asaduddin Owaisi-এর নেতৃত্বাধীন এই সিদ্ধান্তের ফলে বাংলার রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
সূত্রের খবর, সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় AIMIM। ওই ভিডিওতে হুমায়ুন কবীরকে ঘিরে একাধিক দাবি ও বক্তব্য ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। যদিও হুমায়ুন কবীর পুরো ঘটনাটিকে “এআই-নির্ভর ষড়যন্ত্র” বলে দাবি করেছেন, তবে বিতর্ক থামেনি।
এই ঘটনার পর AIMIM-এর তরফে অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়, এমন কোনও বক্তব্য বা অবস্থানের সঙ্গে তারা যুক্ত থাকতে পারে না, যেখানে কোনও সম্প্রদায়ের মর্যাদা বা সততা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। একইসঙ্গে দলটি স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, এখন থেকে বাংলায় তারা একাই নির্বাচনী লড়াই চালাবে এবং কোনও দলের সঙ্গে জোটে থাকবে না।
এই সিদ্ধান্তের ফলে রাজনৈতিকভাবে চাপে পড়েছেন হুমায়ুন কবীর। কিছুদিন আগেই তিনি ওয়েইসিকে “বড় ভাই” বলে সম্বোধন করে আনুষ্ঠানিকভাবে জোটের ঘোষণা করেছিলেন। সেই সময় দু’পক্ষই জানিয়েছিল, শুধু বিধানসভা নয়, ভবিষ্যতে লোকসভা নির্বাচনেও একসঙ্গে লড়াইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই সেই সমীকরণ ভেঙে গেল।
ভিডিও বিতর্ক ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতেও শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। শাসকদল ও বিরোধী উভয় শিবিরই একে অপরকে দায়ী করছে। একপক্ষের দাবি, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রচারিত, অন্যদিকে আরেকপক্ষের বক্তব্য, বিষয়টি গুরুতর এবং তদন্ত প্রয়োজন।
হুমায়ুন কবীর অবশ্য নিজের অবস্থানে অনড় থেকে দাবি করেছেন, ভিডিওটি সম্পূর্ণভাবে প্রযুক্তিগতভাবে বিকৃত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। তবে তাঁর এই ব্যাখ্যা সত্ত্বেও জোট ভাঙার সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে আসেনি AIMIM।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা আসন্ন নির্বাচনে মুসলিম ভোট রাজনীতির সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ছোট দল ও নতুন রাজনৈতিক জোটগুলির ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে এই জোট ভাঙন বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে নতুন করে উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি করেছে।
