
আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-এর প্রাক্কালে রাজ্য প্রশাসনে বড়সড় পরিবর্তন আনল Election Commission of India। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মোট ১৪৯ জন পুলিশ আধিকারিককে ভোটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, সরানো আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন ৮১ জন ইন্সপেক্টর এবং ৬৮ জন সাব-ইন্সপেক্টর। তাঁদের ভোট সংক্রান্ত কোনও দায়িত্বে রাখা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আজ বিকেল ৫টার মধ্যে তাঁদের নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে এবং এ বিষয়ে লিখিত মুচলেকাও দিতে হবে।
কমিশনের দাবি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ। ভোটের সময় প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেই এই রদবদল করা হয়েছে। শুধু এই দফাই নয়, এর আগেও রাজ্যে একাধিক দফায় প্রশাসনিক স্তরে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে সরানোর পাশাপাশি রাজ্য পুলিশের শীর্ষ পর্যায়েও পরিবর্তন আনা হয়। একাধিক জেলা শাসক, পুলিশ সুপার ও কমিশনার স্তরের আধিকারিকদেরও বদলি করা হয়েছিল। সিনিয়র অফিসারদের অন্য রাজ্যে নির্বাচনী পর্যবেক্ষকের দায়িত্বে পাঠানো হয়েছে বলেও জানা গেছে।
এই সিদ্ধান্ত ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শাসকদল অভিযোগ করেছে, ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতেই কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।
রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই এই ইস্যু নিয়ে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশের মতে, ভোটের মুখে এই ধরনের বড় রদবদল মাঠপর্যায়ের কাজের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে কমিশন জানিয়েছে, ভোট পরিচালনায় কোনও পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করা হবে না।
উল্লেখ্য, রাজ্যে দুই দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হবে প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। তার আগে একাধিক দফায় প্রশাসনিক নজরদারি ও পরিবর্তন চলতে থাকায় রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়ছে।
সব মিলিয়ে West Bengal Assembly Election 2026-এর আগে এই সিদ্ধান্ত রাজ্যের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
