
আসন্ন West Bengal Assembly Election 2026-কে ঘিরে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ক্রমশ বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার গোসাবা এবং বাঁকুড়া জেলায় সাম্প্রতিক ঘটনা ঘিরে নতুন করে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে গোসাবায় বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে, অন্যদিকে বাঁকুড়ায় বিজেপি নেতার পরিবারের সদস্যকে কেন্দ্র করে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে তীব্র বিতর্ক ছড়িয়েছে।
গোসাবার ঘটনায় Bharatiya Janata Party-এর অভিযোগ, একটি ঘরোয়া সাংগঠনিক বৈঠকের সময় অতর্কিতে হামলা চালায় কিছু দুষ্কৃতী। অভিযোগে বলা হয়েছে, লোহার রড ও লাঠি দিয়ে বিজেপি কর্মীদের মারধর করা হয়, যাতে একাধিক কর্মী আহত হন। স্থানীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে দলীয় পক্ষ থেকে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানানো হয়েছে। যদিও প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, রাঙাবেলিয়া এলাকায় একটি বৈঠকের সময় আচমকাই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সংখ্যায় বেশি একটি দল সেখানে ঢুকে পড়ে এবং মারধর শুরু করে। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অন্যদিকে, বাঁকুড়ার কোতুলপুর এলাকায় এক ভিন্ন ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, এক বিজেপি মণ্ডল সভাপতির নাবালক সন্তানের কাছে গিয়ে এক ব্যক্তি তার বাবাকে প্রাণে মারার হুমকি দেয়। এই ঘটনার পরই স্থানীয় বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং অভিযুক্তকে ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে এই ধরনের একের পর এক সংঘর্ষ ও হুমকির ঘটনা রাজ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিরোধীরা অভিযোগ করছে, রাজ্যে ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে, অন্যদিকে শাসকদল এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের দাবি জোরদার হচ্ছে।
এই অশান্তির আবহে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের আগে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা অনেকটাই নির্ভর করছে প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ ও রাজনৈতিক দলগুলির সংযমের উপর।
