
নয়াদিল্লি: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর সম্ভাব্য শান্তি আলোচনার আগে পাকিস্তান-এর ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল ইজরায়েল। ভারতে নিযুক্ত ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রেউভেন আজার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “আমরা পাকিস্তানিদের বিশ্বাস করি না।”
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “পাকিস্তানের ওপর অতিরিক্ত ভরসা করার কোনও কারণ নেই। আমার মনে হয়, আমেরিকাও তাদের পুরোপুরি বিশ্বাস করে না। তারা শুধু মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে, এর বেশি কিছু নয়।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
ইসলামাবাদে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা, যেখানে দুই দেশের মধ্যে চলা উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা হবে। সেই প্রেক্ষিতে পাকিস্তান নিজেকে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুলে ধরলেও, ইজরায়েলের এই মন্তব্যে তাদের নিরপেক্ষতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
আজার আরও জানান, ইজরায়েলের আশা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওপরই নির্ভর করছে। তাঁর কথায়, “আমরা বিশ্বাস করি, আমেরিকা এই দুই সপ্তাহের সময়কে কাজে লাগিয়ে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে পারবে।”
লেবাননে ইজরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমাদের দেশের নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন, আমরা তাই করব।” অর্থাৎ আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও ইজরায়েল তাদের অবস্থান থেকে সরে আসতে নারাজ।
এর আগে এক সাক্ষাৎকারে তিনি আরও উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন যে, গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে পাকিস্তানের সেনা থাকলে তা ইজরায়েলের জন্য গ্রহণযোগ্য হবে না। পাশাপাশি হামাস ও পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের মধ্যে যোগাযোগ নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
অন্যদিকে, রিপোর্ট অনুযায়ী, পাকিস্তান এই শান্তি প্রক্রিয়ায় ‘শান্তির দূত’ হিসেবে নিজেকে তুলে ধরলেও, বাস্তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-এর চাপেই তারা ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ভূমিকা নেয়। এমনও দাবি করা হচ্ছে, ওয়াশিংটন ইসলামাবাদকে ব্যবহার করেছে ইরানকে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি করানোর জন্য।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই সপ্তাহের একটি শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে হরমুজ প্রণালী ও লেবানন ঘিরে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও অস্থির।
শান্তি আলোচনার আগে এই ধরনের কড়া মন্তব্য কূটনৈতিক সমীকরণকে আরও জটিল করে তুলছে বলেই মনে করছে আন্তর্জাতিক মহল।
