
ওয়াশিংটন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প-কে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে জেফ্রি এপস্টিন-এর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া নানা দাবি ও ছবির প্রেক্ষিতে এবার প্রকাশ্যে মুখ খুলে সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে মেলানিয়া বলেন, “আমি কখনো এপস্টিনের বন্ধু ছিলাম না। উনি আমাকে ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেননি।” তিনি আরও জানান, ১৯৯৮ সালে নিউইয়র্কের একটি পার্টিতে প্রথমবার ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর দেখা হয় এবং সেই সময় এপস্টিন বা তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর সঙ্গে তাঁর কোনও যোগাযোগ ছিল না।
মেলানিয়া আরও দাবি করেন, “সোশ্যাল মিডিয়ায় যেসব ছবি ও তথ্য ঘুরছে, তার অধিকাংশই ভুয়ো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।” তাঁর মতে, এই ধরনের গুজব সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং তা বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এপস্টিন সংক্রান্ত কোনও তদন্তে তিনি কখনোই যুক্ত ছিলেন না।
তবে তাঁর এই মন্তব্যের পরই বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক ব্যবহারকারী পুরনো ছবি, নথি এবং বিভিন্ন দাবি তুলে ধরতে শুরু করেন। কিছু পোস্টে ২০০০ সালের শুরুর দিকের পার্টির ছবি সামনে আনা হয়, যেখানে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও এপস্টিনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে।
এছাড়াও আলোচনায় উঠে আসে একটি পুরনো ইমেল, যেখানে “Love, Melania” স্বাক্ষর করা একটি বার্তা ঘিসলেইন ম্যাক্সওয়েল-এর উদ্দেশে লেখা বলে দাবি করা হয়। যদিও সেই ইমেলের বড় অংশই ব্ল্যাকআউট করা অবস্থায় রয়েছে এবং তা থেকে কোনও ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের প্রমাণ মেলে না।
ফ্যাক্ট-চেক রিপোর্ট অনুযায়ী, মেলানিয়াকে সরাসরি এপস্টিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা গেছে এমন কোনও যাচাই করা প্রমাণ এখনও সামনে আসেনি। ফলে বিতর্ক থাকলেও তার সত্যতা নিয়ে স্পষ্ট প্রমাণের অভাব রয়েছে।
মেলানিয়ার এই স্পষ্ট অস্বীকারের পরও বিতর্ক থামছে না। বরং সোশ্যাল মিডিয়ার জল্পনা-কল্পনা ও পুরনো তথ্য ঘিরে বিষয়টি আরও আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
