
ঢাকা: বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম ক্রমাগত বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা চরম সংকটে পড়েছে। বাজারে মাছ, মাংস ও সবজির দাম এক লাফে অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় আমজনতার ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে বহু পণ্য। বিশেষ করে ঢাকার বাজারে সবজির ঘাটতি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২৩০-২৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৮০-৪২০ টাকায় পৌঁছেছে। মাঝারি রুই মাছ এখন ৩৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বড় আকারের রুই মাছের দাম ৪০০-৪৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। পাশাপাশি তেলাপিয়া, পাঙাশ ও চিংড়ির দামও গত বছরের তুলনায় অনেক বেড়েছে, সরবরাহও কম।
সবজির বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। পেঁপে বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৮০ টাকা কেজি দরে। পটোল ও ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০ টাকা, সিম ও সজিনা ৮০-১০০ টাকা, আর ঝিঙে, চিচিঙ্গা, বরবটি, করলা ১০০-১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কাঁকরোলের দাম পৌঁছেছে ১২০-১৬০ টাকায়। যদিও পেঁয়াজ ও কাঁচা লঙ্কার দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম থাকলেও বাজারে স্বস্তি নেই।
তেলের সংকটও বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ কমে গেছে। অনেক দোকানে ১ লিটার বা আধ লিটারের বোতল পাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে খোলা সয়াবিন তেল ২০০-২১০ টাকা এবং পাম তেল ১৮০-১৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে, যা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরবরাহ ঘাটতি, আমদানি নির্ভরতা এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। তবে সাধারণ মানুষের আয়ের সঙ্গে খরচের এই অসামঞ্জস্য তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলছে।
খাদ্যদ্রব্যের এই লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি বাংলাদেশে অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের।
