
বাঁকুড়া জেলার স্কুলডাঙ্গা এলাকায় সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের এক নেতার উপর নৃশংস হামলার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র চাপানউতোর। আহত নেতা অরিন্দম মণ্ডল বর্তমানে বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে খবর, ওই দিন স্কুলডাঙ্গার একটি হলঘরে সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের বৈঠক ছিল। বৈঠক শেষে সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে নেতা ভাস্কর ঘোষ কাছাকাছি একটি এলাকায় বসে ছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় আচমকাই প্রায় ৩০-৪০ জন দুষ্কৃতী লাঠি, বাঁশ ও হকি স্টিক নিয়ে তাঁদের উপর চড়াও হয়। হামলার মূল লক্ষ্য ছিলেন অরিন্দম মণ্ডল। তাঁকে লক্ষ্য করে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
ঘটনায় গুরুতর জখম হন অরিন্দম। তাঁর সহকর্মীরাই তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত লেগেছে, এবং এখনও তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, এই হামলা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ভাস্কর ঘোষের দাবি, তৃণমূলের এক ছাত্র নেতার নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, হামলাকারীদের হাতে দলীয় পতাকা বাঁধা লাঠিও ছিল, যা থেকে তাঁদের পরিচয় স্পষ্ট। তাঁর অভিযোগ, হামলাকারীদের উদ্দেশ্য ছিল অরিন্দমকে প্রাণে মেরে ফেলা।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ নেই এবং বিরোধীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দলের নাম জড়াচ্ছে।
ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই কিছু প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুখে এমন হামলার ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে। এখন দেখার, তদন্তে কী উঠে আসে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন।
