
কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত ও যুদ্ধবিরতি পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে চিন, এমনই দাবি করলেন কলকাতায় নিযুক্ত চিনা কনসাল জেনারেল শু ওয়ে। শুক্রবার তিনি জানান, আরব দুনিয়ায় চলমান সংঘাত থামাতে কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে বেজিং।
তিনি বলেন, ইরান, ইজরায়েল এবং সংশ্লিষ্ট আরব দেশগুলোর মধ্যে যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাশাপাশি এই পরিস্থিতি আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
শু ওয়ে দাবি করেন, চিন শুরু থেকেই একটি “বস্তুনিষ্ঠ, ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান” বজায় রেখে এসেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকটের সমাধান করা। তিনি আরও জানান, চিনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেছেন এবং কূটনৈতিক আলোচনাকে এগিয়ে নিয়েছেন।
সূত্র অনুযায়ী, ইরান, ইজরায়েল, রাশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে চিন। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূতও বিভিন্ন দেশে সফর করে আলোচনা চালিয়েছেন বলে জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “বলপ্রয়োগ নয়, রাজনৈতিক সমাধানই শান্তির একমাত্র পথ।”
তবে চিন সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিয়েছে কি না বা প্রকাশ্যে সামরিক সহায়তা দিয়েছে কি না, তা নিয়ে স্পষ্ট কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে যদিও ভিন্ন ভিন্ন দাবি উঠে এসেছে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। এই আলোচনাকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বেড়েছে। পাকিস্তানও মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে বলে জানা গেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তেজনা শুধুমাত্র আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। তাই বড় শক্তিগুলোর বিশেষ করে চিন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার কূটনৈতিক সক্রিয়তা পরিস্থিতিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কূটনৈতিক আলোচনাই এখন প্রধান ভরসা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
