
ইরান: হরমুজ প্রণালী পুনরায় সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে গিয়ে বড় সমস্যার মুখে পড়েছে ইরান। আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, দেশটি নিজেই যে সমুদ্র মাইনগুলো পেতে রেখেছিল, সেগুলোর সঠিক অবস্থান এখন আর খুঁজে পাচ্ছে না তেহরান। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ পরিষ্কার করা ও সম্পূর্ণভাবে চালু করা কার্যত কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও মার্কিন প্রশাসনের সূত্র অনুযায়ী, গত সংঘাতের সময় ইরান ছোট নৌকা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালীর বিভিন্ন অংশে মাইন পেতে রেখেছিল। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ রেকর্ড রাখা হয়নি, আবার কিছু মাইন জলের স্রোতে স্থানচ্যুত হয়েছে। ফলে বর্তমানে কোন এলাকায় কত মাইন রয়েছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ অপরিশোধিত তেল এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এখানে কোনো ধরনের বাধা তৈরি হলে তা সরাসরি আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে ইরানকে দ্রুত মাইন অপসারণ করতে হবে। তবে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে এই কাজ সহজ নয় বলে ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ইরান বলছে, মাইন খুঁজে বের করা ও নিষ্ক্রিয় করা অত্যন্ত জটিল এবং সময়সাপেক্ষ কাজ।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা শুরু হয়েছে। আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে দ্রুত জলপথ সম্পূর্ণ খুলে দেওয়া হোক, অন্যদিকে ইরান নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাইন অপসারণে ইরানের সক্ষমতা সীমিত, এমনকি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্যও এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও দীর্ঘ প্রক্রিয়া। ফলে এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।
বর্তমানে আংশিকভাবে কিছু নিরাপদ রুট চালু থাকলেও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক নৌচলাচল এখনও অনিশ্চিত। ফলে হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি শুধু আঞ্চলিক নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
