
মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে নির্বাচনী জনসভা থেকে এআই-নির্মিত ভুয়ো ভিডিও ও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে কড়া বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিরোধীরা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ডিপফেক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুয়ো প্রচার চালাতে পারে। সেই কারণে সাধারণ মানুষকে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্য যাচাই করে তবেই বিশ্বাস করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে সরাসরি কোনও রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করলেও তৃণমূল কংগ্রেসকে ইঙ্গিত করে বলেন, রাজ্যে শাসক শিবির এখন “পরাজয়ের ছায়া” দেখতে পাচ্ছে। সেই কারণেই বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের আশঙ্কা বাড়ছে বলে তাঁর দাবি। তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন নির্বাচনেও এআই-জেনারেটেড ভিডিও ও ভুয়ো তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা দেখা গেছে, বাংলাতেও সেই প্রবণতা দেখা দিতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে গত কয়েকদিন ধরে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় রয়েছেন সংখ্যালঘু নেতা Humayun Kabir। তাঁর একটি ভাইরাল ভিডিও ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ওই ভিডিওতে তাঁকে কিছু মন্তব্য করতে দেখা যাচ্ছে, যেখানে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ‘সমঝোতা’র ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করা হয়। যদিও ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি, এবং হুমায়ুন কবীর নিজেই দাবি করেছেন, এটি এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি একটি ভুয়ো ভিডিও।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। তৃণমূল শিবিরের একাংশ এই ভিডিওকে রাজনৈতিক প্রচারের হাতিয়ার হিসেবে দেখলেও, বিরোধীরা বিষয়টি নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি নেতৃত্ব আবারও ভুয়ো প্রচার ও ডিজিটাল বিভ্রান্তি নিয়ে অভিযোগ তুলেছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মোদীর এই বার্তা শুধু প্রযুক্তিগত সতর্কতা নয়, বরং নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা যেতে পারে। বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ ও সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের আগে এই ধরনের বক্তব্য জনমনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
এআই প্রযুক্তি, ভুয়ো ভিডিও এবং রাজনৈতিক উত্তাপ সব মিলিয়ে রাজ্যের ভোটের আবহ আরও জটিল হয়ে উঠছে। আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
