
হরিয়ানার ২০১৪ সালের সহিংসতা মামলায় দীর্ঘ ১১ বছরের বেশি সময় কারাবাসের পর জামিনে মুক্তি পেলেন স্বঘোষিত ধর্মগুরু রামপাল। পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট সম্প্রতি তাঁকে জামিন মঞ্জুর করার পর শুক্রবার তিনি হরিয়ানার হিসার জেলার একটি জেল থেকে মুক্তি পান। তাঁর বয়স এখন প্রায় ৭৫ বছর।
জেল থেকে বের হওয়ার সময় রামপালের পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁকে স্বাগত জানাতে কারাগারের বাইরে ভিড় জমায় তাঁর বহু অনুসারী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়।
হাইকোর্ট ৮ এপ্রিল তাঁর জামিনের নির্দেশ দেয়। আদালত জানায়, দীর্ঘদিন ধরে তিনি কারাবন্দি এবং বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে আরও সময় লাগতে পারে। সেই কারণেই তাঁকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আদালত তাঁকে নির্দেশ দেয়, তিনি যেন কোনো ধরনের জনমত উসকে দেওয়া বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গের পরিস্থিতি তৈরি করা কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হন।
২০১৪ সালে হিসারের বারওয়ালা এলাকায় তাঁর আশ্রমে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে গেলে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেই সময় তাঁর শত শত অনুসারী গ্রেপ্তার প্রতিরোধে রুখে দাঁড়ায় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ওই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের চেষ্টা-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ এবং কঠোর আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই ঘটনায় প্রায় ৯০০ জন অনুসারীর নাম অভিযুক্ত হিসেবে ছিল। তাঁদের অনেকেই ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এছাড়া শতাধিক সাক্ষীর মধ্যে এখনও অল্প সংখ্যক সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, ফলে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হচ্ছে।
রামপালের আইনজীবীরা আদালতে দাবি করেন, তাঁর বয়স বেশি এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি কারাবন্দি। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে জামিন দেওয়া উচিত। আদালত সেই যুক্তি বিবেচনা করে জামিন মঞ্জুর করে।
বর্তমানে তিনি মুক্ত হলেও মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলবে বলে জানা গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা না ঘটে।
