
কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের আবহে ফের উত্তপ্ত হতে চলেছে বাংলার রাজনৈতিক ময়দান। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পর এবার রাজ্যে প্রচারের ঝড় তুলতে আসছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী Yogi Adityanath। জানা গেছে, আসন্ন নির্বাচনী প্রচারে তিনি অন্তত ১২টি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, রবিবার থেকেই রাজ্যে প্রচার শুরু করবেন যোগী আদিত্যনাথ। তাঁর প্রথম দফার কর্মসূচিতে রয়েছে বাঁকুড়ার পাত্রসায়র এবং পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা। এরপর ধাপে ধাপে একাধিক জেলা ঘুরে তিনি জনসংযোগ ও সভা করবেন বলে জানা গেছে। বিজেপি শিবিরের অভ্যন্তরীণ আলোচনায় ইঙ্গিত মিলেছে, পরিস্থিতি বুঝে তাঁর কর্মসূচির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভোটের মুখে সংগঠনকে চাঙ্গা করতেই কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি রাজ্যে আনা হচ্ছে শীর্ষ মুখদের। এর আগে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Amit Shah-ও একাধিক সভা করে গিয়েছেন। এবার সেই তালিকায় যোগ হল যোগী আদিত্যনাথের নাম, যিনি দলের মধ্যে ‘হিন্দুত্বের পোস্টার বয়’ হিসেবে পরিচিত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যোগীর উপস্থিতি বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। উত্তরপ্রদেশে তাঁর শাসনকাল, কঠোর প্রশাসনিক নীতি এবং ‘বুলডোজার রাজনীতি’ তাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে। সেই ভাবমূর্তি ব্যবহার করেই বিজেপি বাংলার ভোটারদের কাছে পৌঁছতে চাইছে বলে মত বিশ্লেষকদের একাংশের।
তাঁদের মতে, হিন্দু ভোটব্যাঙ্ককে আরও সংহত করা এবং দলীয় কর্মীদের মধ্যে উচ্ছ্বাস তৈরি করাই এই প্রচারের প্রধান লক্ষ্য। একইসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ আরও তীব্র করা হতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস এখনও এই সফর নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না দিলেও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, যোগীর এই সফর রাজ্যে নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়াবে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাংলায় গেরুয়া শিবিরের প্রচার কৌশলে বড়সড় ইঙ্গিত দিচ্ছে এই ১২ কর্মসূচির সফর। এখন নজর, মাটিতে নেমে ঠিক কী বার্তা দেন যোগী আদিত্যনাথ এবং কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন বাংলার ভোট রাজনীতিতে।
