
জনস্বাস্থ্য পরিষেবার মান উন্নত করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল বিহার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী Nitish Kumar-এর নেতৃত্বে রাজ্যে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি আর কোনও চিকিৎসক ব্যক্তিগত চেম্বার বা ক্লিনিকে রোগী দেখতে পারবেন না।
রাজ্য সরকারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল যে বহু সরকারি চিকিৎসক ডিউটি আওয়ারের বাইরে প্রাইভেট প্র্যাকটিসে বেশি সময় দিচ্ছেন। ফলে সরকারি হাসপাতালে রোগীরা পর্যাপ্ত পরিষেবা পাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতি বদলাতেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও দায়বদ্ধতা আরও বাড়বে।
এই নীতি কার্যকর করা হচ্ছে ‘সাত নিশ্চয়-৩’ কর্মসূচির আওতায়, যার লক্ষ্য ‘সুলভ স্বাস্থ্য, নিরাপদ জীবন’ নিশ্চিত করা। স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সরকারি বেতনভুক কোনও চিকিৎসক তাঁর নির্ধারিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অন্য কোনওভাবে ব্যক্তিগত চিকিৎসা পরিষেবায় যুক্ত থাকতে পারবেন না। এই নিয়ম রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকদের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে।
তবে এই সিদ্ধান্তে চিকিৎসকদের আর্থিক ক্ষতির প্রশ্নও উঠছে। সেই দিকটি বিবেচনা করে সরকার ‘নন-প্র্যাকটিসিং অ্যালাউন্স’ বা NPA চালু করার কথা জানিয়েছে। এই বিশেষ ভাতার মাধ্যমে চিকিৎসকদের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও এই ভাতা কার্যকর করার আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এখনও বাকি।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই সিদ্ধান্ত একেবারে হঠাৎ নয়। চলতি বছরের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নত করতে বড় ধরনের নীতি আনা হবে। সেই ঘোষণারই বাস্তবায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে এই পদক্ষেপকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা অনেকটাই উন্নত হতে পারে। তবে চিকিৎসকদের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়, তা এখন দেখার বিষয়। অনেকেই মনে করছেন, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো ও জনবল না বাড়ালে শুধুমাত্র নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয়।
বিহার সরকারের এই পদক্ষেপ এখন জাতীয় স্তরেও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যতে অন্য রাজ্যগুলোও একই পথে হাঁটে কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।
