
আইপিএল ২০২৬-এর এক উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে সহজেই হারাল গুজরাত টাইটান্স। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণর আগুনঝরা বোলিং এবং শুভমান গিল ও জস বাটলারের ব্যাটিং নৈপুণ্যে ১৮.২ ওভারেই ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত। ১৬৫ রানের লক্ষ্য তারা খুব একটা সমস্যায় না পড়েই তাড়া করে ফেলে।
ম্যাচের শুরুতে লখনউ ভালো অবস্থানে ছিল না, তবে পুরোপুরি ভেঙেও পড়েনি। ওপেনারদের মধ্যে এডেন মার্করাম ৩০ রানের একটি কার্যকর ইনিংস খেলেন। ঋষভ পন্থ, নিকোলাস পুরান এবং আব্দুল সামাদ কিছুটা ভালো শুরু করলেও কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। মাঝের ওভারগুলোতে রান তোলার গতি কমে যায়, আর সেখানেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় গুজরাতের বোলিং আক্রমণ।
প্রসিদ্ধ কৃষ্ণ ছিলেন সবচেয়ে বড় তারকা। তিনি তার গতিময় ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে লখনউ ব্যাটিং লাইনআপকে বারবার চাপে ফেলেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে উইকেট তুলে নিয়ে তিনি লখনউকে বড় স্কোরের দিকে যেতে দেননি। শেষ পর্যন্ত তিনি চার উইকেট শিকার করেন। তাঁর আগুনঝরা স্পেলে লখনউ ২০ ওভারে ১৬৪ রানেই আটকে যায়।
১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল গুজরাত টাইটান্স। অধিনায়ক শুভমান গিল শুরু থেকেই নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ব্যাটিং করেন। অন্যদিকে জস বাটলার খেলেন আক্রমণাত্মক ক্রিকেট। এই দুই ব্যাটারের জুটি ম্যাচের গতিপথ একেবারে বদলে দেয়।
গিল ৫৬ রান করে দলকে শক্ত ভিত গড়ে দেন। বাটলার করেন ৬০ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তাঁদের ব্যাটিংয়ে লখনউয়ের বোলাররা কোনো চাপ তৈরি করতে পারেনি। যদিও মহম্মদ শামি এবং প্রিন্স যাদব কিছুটা সাফল্য পান, ততক্ষণে ম্যাচ অনেকটাই গুজরাতের দিকে চলে যায়।
শেষ দিকে ওয়াশিংটন সুন্দর এবং রাহুল তেওয়াটিয়া ঠান্ডা মাথায় ইনিংস শেষ করেন। কোনো নাটকীয়তা ছাড়াই লক্ষ্য পূরণ করে গুজরাত টাইটান্স।
এই জয়ের মাধ্যমে গুজরাত টাইটান্স আবারও প্রমাণ করল যে তারা ব্যাটিং ও বোলিং দুই বিভাগেই সমান শক্তিশালী। অন্যদিকে লখনউ সুপার জায়ান্টসের জন্য এটি আরও একটি হতাশার ম্যাচ, যেখানে ভালো শুরু করেও তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ধরে রাখতে ব্যর্থ হল।
