
জার্মান ফুটবলে তৈরি হল নজির। বুন্দেসলিগার ক্লাব ইউনিয়ন বার্লিন পুরুষ দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব দিল মারি-লুইস এতা-কে। এই প্রথমবার বুন্দেসলিগার ইতিহাসে কোনো পুরুষ দলের প্রধান কোচ হলেন একজন মহিলা।
ক্লাবের এই সিদ্ধান্ত এসেছে এক কঠিন পরিস্থিতিতে। হাইডেনহাইমের কাছে ৩-১ গোলে হারের পর বিদায় নিতে হয়েছে স্টেফেন বাউমগার্টকে। শীতকালীন বিরতির পর থেকে দলের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। ১৪ ম্যাচে মাত্র ২টি জয়, ফলে অবনমন জোনের চাপ বাড়ছিল ক্রমেই।
এই পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয় ক্লাব ম্যানেজমেন্ট। স্পোর্টিং ডিরেক্টর হর্স্ট হেল্ট স্পষ্ট জানান, ফলাফল ও পারফরম্যান্স কোনোভাবেই সন্তোষজনক ছিল না। তাই নতুন দিশা খুঁজতেই কোচিং স্টাফে বড় পরিবর্তন আনা হয়।
মারি-লুইস এতা আগে থেকেই ক্লাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি ২০২৩ সালে বুন্দেসলিগা ও ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের প্রথম মহিলা সহকারী কোচ হিসেবে ইতিহাস গড়েছিলেন। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ দল এবং বিভিন্ন দায়িত্বে কাজ করে তিনি কোচিং কাঠামোর ভেতরে নিজের জায়গা শক্ত করেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ, কৌশলগত বোঝাপড়া এবং ম্যাচ বিশ্লেষণের দক্ষতা ক্লাব কর্তৃপক্ষের আস্থা অর্জন করে।
লিগ টেবিলে ইউনিয়ন বার্লিন আপাতত ১১তম স্থানে থাকলেও অবনমন অঞ্চল থেকে ব্যবধান মাত্র ৭ পয়েন্ট। ফলে সামনে থাকা পাঁচটি ম্যাচ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিটি ম্যাচই এখন তাদের জন্য প্রায় ‘ফাইনাল’-এর মতো।
ক্লাবের লক্ষ্য পরিষ্কার, রেলিগেশন থেকে নিরাপদ থাকা। তাই এই সিদ্ধান্তকে কেউ কেউ সাহসী পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও, অনেকেই এটিকে ঝুঁকিপূর্ণ জুয়া বলেও মনে করছেন। কারণ সময় খুব কম, চাপ অনেক বেশি, আর ফলাফলই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মারি-লুইস এতার জন্যও এটি ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আগে তিনি ভবিষ্যতে মহিলা দলের প্রধান কোচ হওয়ার পথে ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে সময়সূচি। এখন সরাসরি পুরুষ দলের দায়িত্ব সামলাতে হবে তাঁকে।
ইউনিয়ন বার্লিনের এই সিদ্ধান্ত শুধু জার্মান ফুটবলে নয়, বিশ্ব ফুটবলেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এটা কি শুধুই প্রতীকী পরিবর্তন, নাকি সত্যিই নতুন যুগের শুরু, তা জানা যাবে আগামী কয়েকটি ম্যাচেই।
