
ইসলামাবাদে দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। এই আবহেই সরাসরি ইরানকে আক্রমণ করলেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu। তাঁর দাবি, একসময় ইজরায়েলকে ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া ইরান এখন নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেই লড়াই করছে।
রবিবার এক ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান আমাদের শেষ করতে চেয়েছিল, কিন্তু এখন ওরাই টিকে থাকার লড়াই লড়ছে।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, Iran গাজায় হামাস, লেবাননে হিজবুল্লাহ, সিরিয়ায় আসাদ সরকার, ইরাকের বিভিন্ন মিলিশিয়া এবং ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে ব্যবহার করে চারদিক থেকে ইজরায়েলকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে সেই কৌশল ভেস্তে গেছে বলেই দাবি তাঁর।
নেতানিয়াহু আরও জানান, গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যৌথ অভিযানে Israel ও United States বড় সাফল্য পেয়েছে। তাঁর দাবি, ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বড় ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। যদিও এই যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।
এদিকে, পাকিস্তানের উদ্যোগে ইসলামাবাদে হওয়া মার্কিন-ইরান বৈঠক কোনও সমাধান ছাড়াই শেষ হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট JD Vance জানিয়েছেন, আলোচনা যথেষ্ট এগোলেও ইরানের কাছ থেকে পরমাণু অস্ত্র না তৈরির স্পষ্ট নিশ্চয়তা পাওয়া যায়নি। তাঁর মতে, এই ব্যর্থতা ইরানের জন্যই বেশি ক্ষতিকর।
অন্যদিকে, ইরান সম্পূর্ণ দায় চাপিয়েছে আমেরিকার উপর। তাদের দাবি, United States অযৌক্তিক শর্ত চাপানোর কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে। ইরানের বক্তব্য, তারা জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা আরও বেড়েছে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হরমুজ খুলতেই হবে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যেই সেখানে মোতায়েন হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও ইরান পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় বিদেশি হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করা হবে না।
সব মিলিয়ে, শান্তি বৈঠক ব্যর্থ হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাকিস্তান আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তির পথ যে অত্যন্ত কঠিন, তা স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
