
মহারাষ্ট্রের থানে এক চাঞ্চল্যকর প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর নামে এক ৮২ বছর বয়সি বৃদ্ধার কাছ থেকে প্রায় ৭৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাটি নতুন করে অনলাইন প্রতারণার বিপদ নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৬ এপ্রিল থেকে ১০ এপ্রিলের মধ্যে একাধিক অচেনা নম্বর থেকে ওই বৃদ্ধার কাছে ফোন আসে। ফোনে নিজেদের পুলিশ বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিক পরিচয় দিয়ে কথা বলেন প্রতারকরা। প্রথমে তাঁকে জানানো হয়, তাঁর ফোন নম্বর নাকি একটি পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। এমনকি তাঁকে পহেলগাঁও হামলার সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
এই অভিযোগে ভয় পেয়ে যান বৃদ্ধা। প্রতারকরা তাঁকে বলেন, এই মামলায় নাম মুছতে হলে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা দিতে হবে। অন্যথায় তাঁকে গ্রেফতার করা হবে এবং কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধাপে ধাপে চার দিনের মধ্যে বিভিন্ন অজুহাতে তাঁর কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা আদায় করা হয়।
বৃদ্ধার অভিযোগ অনুযায়ী, মোট প্রায় ৭৩ লক্ষ ৩ হাজার টাকা তিনি প্রতারকদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হওয়ায় এবং পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি বুঝতে পারেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। এরপরই তিনি থানার দ্বারস্থ হন এবং মহাত্মা ফুলে চক থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
পুলিশ ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পাঁচটি মোবাইল নম্বর চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের পরিচয় ও অবস্থান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
এই ধরনের প্রতারণাকে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ বলা হয়। এতে প্রতারকরা নিজেদের পুলিশ, সিবিআই, ইডি বা অন্য সরকারি সংস্থার আধিকারিক বলে পরিচয় দেয় এবং ভুয়ো অভিযোগ তুলে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়। এরপর আইনি ঝামেলা থেকে বাঁচার নাম করে টাকা দাবি করা হয়। অনেক সময় ভিডিও কল বা নকল নথির মাধ্যমে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানো হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হয়েছে—কোনও অচেনা ব্যক্তি যদি ফোনে নিজেদের সরকারি আধিকারিক দাবি করে টাকা চায়, তবে তা সঙ্গে সঙ্গে সন্দেহ করা উচিত। এমন পরিস্থিতিতে কোনও টাকা না দিয়ে নিকটবর্তী থানায় যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, ডিজিটাল যুগে সচেতনতা না থাকলে মুহূর্তের মধ্যে সর্বস্ব হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।
