
কলকাতা: মহিলাদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রাইজমানি ১০ শতাংশ বাড়ানো নিয়ে সাম্প্রতিক ঘোষণা নারী ক্রিকেটে বড়সড় ইতিবাচক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (ICC) সোমবার জানিয়েছে, আগামী বিশ্বকাপে মোট পুরস্কারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮২ কোটি টাকা, যা গত আসরের তুলনায় প্রায় ১০ শতাংশ বেশি। এই টুর্নামেন্ট শুরু হবে ১২ জুন, আয়োজক দেশ ইংল্যান্ড এবং ওয়েলস।
এবারের বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ১২টি দল অংশ নেবে, যা নারী ক্রিকেটের বিস্তার ও জনপ্রিয়তার প্রতিফলন। প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রায় ২১ কোটি ৮৪ লক্ষ টাকা, যা নারী ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম বড় পুরস্কার। রানার্স-আপ দল পাবে প্রায় ১০ কোটি ৯২ লক্ষ টাকা। সেমিফাইনালে পৌঁছে হেরে যাওয়া দুই দল পাবে ৬ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা করে। শুধু ম্যাচ জয়ই নয়, গ্রুপ পর্বের প্রতিটি জয়ের জন্য আলাদা পুরস্কার রাখা হয়েছে, প্রতিটি জয়ের জন্য প্রায় ২৯ লক্ষ ৭ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রতিটি অংশগ্রহণকারী দলকে ন্যূনতম ২ কোটি ৩১ লক্ষ টাকা করে নিশ্চিত অর্থ দেওয়া হবে, যা ছোট ক্রিকেট দেশগুলোর জন্যও বড় সহায়তা হিসেবে ধরা হচ্ছে। আইসিসির মতে, এই অর্থনৈতিক কাঠামো নারী ক্রিকেটকে আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও পেশাদার করে তুলবে।
আইসিসির সিইও সংযোগ গুপ্তা বলেন, নারী ক্রিকেট দ্রুত উন্নতি করছে এবং বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেই কারণেই পুরস্কারমূল্য বৃদ্ধি এবং দলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ ভবিষ্যতে আরও বেশি দেশকে নারী ক্রিকেটে বিনিয়োগ করতে উৎসাহ দেবে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ট্রফির আন্তর্জাতিক সফর শুরু হয়েছে, যা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ঘুরে আয়োজক দেশে পৌঁছাবে। নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডও এবার বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে, যা ইউরোপীয় নারী ক্রিকেটের অগ্রগতিকে আরও স্পষ্ট করে।
এই প্রাইজমানি বৃদ্ধি শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকেই নয়, নারীদের খেলাধুলায় সমান সুযোগ ও মর্যাদা দেওয়ার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে ধরা হচ্ছে।
