
গুয়াহাটি: আইপিএল ২০২৬-এ বৃষ্টির বাধা উপেক্ষা করে সফলভাবে ম্যাচ আয়োজন করে নজির গড়ল গুয়াহাটির বর্ষাপারা ক্রিকেট স্টেডিয়াম। টানা বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও একটিও ম্যাচ ভেস্তে না যাওয়ায় মাঠকর্মীদের সম্মান জানিয়ে মোট ২৫ লক্ষ টাকা আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে অসম ক্রিকেট সংস্থা।
চলতি মরশুমে রাজস্থান ফ্র্যাঞ্চাইজি তাদের হোম ম্যাচগুলির একটি বড় অংশ গুয়াহাটিতে খেলেছে। সেই ম্যাচগুলির প্রতিটিতেই বৃষ্টি হয়েছে, তবে কোনও ম্যাচ বাতিল হয়নি। কখনও ম্যাচ দেরিতে শুরু হয়েছে, কখনও আবার সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে খেলা সম্পন্ন হয়েছে। বিশেষ করে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে একটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে ১১ ওভারে নামিয়ে আনা হলেও সফলভাবে শেষ করা সম্ভব হয়।
মাঠকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, দক্ষ প্রস্তুতি এবং ধারাবাহিক পরিশ্রমের কারণেই প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও পিচ ও আউটফিল্ড খেলার উপযোগী রাখা সম্ভব হয়েছে। মাঠ ঢেকে রাখা, জল নিষ্কাশন এবং দ্রুত পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় তাঁদের ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
অসম ক্রিকেট সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মাঠকর্মীরা যেভাবে পেশাদারিত্ব দেখিয়েছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তাঁদের এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবেই আর্থিক পুরস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংস্থার মতে, গুয়াহাটির স্টেডিয়াম এখন দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য ভেন্যু হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
এই ঘটনার পাশাপাশি তুলনামূলক আলোচনাও শুরু হয়েছে দেশের অন্যান্য ভেন্যুর সঙ্গে। সম্প্রতি কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বৃষ্টির কারণে একটি ম্যাচ ভেস্তে যাওয়া এবং দেরিতে শুরু হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই প্রেক্ষিতে গুয়াহাটির সাফল্য নতুন করে নজর কেড়েছে ক্রিকেটপ্রেমীদের।
আইপিএল কর্তৃপক্ষও বর্ষাপারা স্টেডিয়ামের মাঠ ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছে বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দক্ষ গ্রাউন্ড স্টাফের সমন্বয়ই এই সাফল্যের মূল কারণ।
আইপিএল এখন বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম বড় আসর। তাই প্রতিটি ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে আয়োজন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই দিক থেকে গুয়াহাটির এই সাফল্য শুধু একটি স্টেডিয়ামের নয়, বরং গোটা টুর্নামেন্টের জন্যই ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক বাধাকেও হার মানিয়ে মাঠে ক্রিকেট ফিরিয়ে আনার এই প্রচেষ্টা আগামী দিনে অন্য ভেন্যুগুলির জন্যও উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা।
