
ইসলামাবাদ: ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে টানা ২১ ঘণ্টা চলা উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে যায় এক আকস্মিক ফোন কলের কারণে, এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বৈঠক চলাকালীন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকে ফোন করেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, আর সেই ফোনের পরেই পুরো আলোচনার গতিপথ বদলে যায়।
আরাঘচি জানিয়েছেন, ফোনে কী আলোচনা হয়েছিল, তা স্পষ্ট নয়। তবে তাঁর অভিযোগ, ওই ফোন আসার পরই আলোচনার মূল উদ্দেশ্য থেকে সরে যায় আমেরিকার প্রতিনিধিদল। তাঁর কথায়, “ইরান-আমেরিকার সমঝোতার চেয়ে ইজরায়েলের স্বার্থ বেশি গুরুত্ব পেল।”
শনিবার ইসলামাবাদে এই বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন উপরাষ্ট্রপতি জে ডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এবং সংসদীয় স্পিকার মহম্মদ বাঘের গালিবাফ। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনার পরও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
ইরান দাবি করেছে, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আমেরিকার কঠোর শর্ত মানতে তারা রাজি হয়নি। অন্যদিকে আমেরিকার মতে, ইরানের অনমনীয় অবস্থানের কারণেই আলোচনা ভেস্তে গেছে।
আরাঘচি আরও জানান, বৈঠক চলাকালীন মার্কিন প্রশাসনের শীর্ষ একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে ভ্যান্সের একাধিকবার যোগাযোগ হয়। তবে নেতানিয়াহুর সঙ্গে সেই কথোপকথন নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। এ বিষয়ে অবশ্য আমেরিকা বা ইজরায়েল এখনও কোনও মন্তব্য করেনি।
এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই এমন কোনও ফোন আলোচনার গতিপথ বদলে থাকে, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং সামরিক অবস্থানও কঠোর হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
ইসলামাবাদের ব্যর্থ বৈঠক এখন শুধু একটি কূটনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কাও বাড়িয়ে তুলেছে আন্তর্জাতিক স্তরে।
