
সপ্তাহের প্রথম দিনেই বড় ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ার বাজার। আন্তর্জাতিক অস্থিরতার জেরে সোমবার সকালে লেনদেন শুরু হতেই বড় পতনের মুখে পড়ে সেনসেক্স ও নিফটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়া এবং অপরিশোধিত তেলের দাম হঠাৎ করে ১০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়াই এই পতনের প্রধান কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বোম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সেনসেক্স সূচক প্রায় ১,৬০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে ৭৫,৯৩৭ স্তরে নেমে আসে। একইসঙ্গে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি ৫০-ও বড় ধাক্কা খেয়ে ৪৬০ পয়েন্টের বেশি কমে ২৩,৫৮৯-এর গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নিচে চলে যায়। বাজার খোলার পর থেকেই বিক্রির চাপ এতটাই বেশি ছিল যে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বিশ্ব রাজনীতির টানাপোড়েনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে এই পতনে। ইসলামাবাদে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরই পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কিন হুঁশিয়ারি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দর অবরোধের সম্ভাবনা। ফলে বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০১ ডলারের বেশি এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ১০৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে যায়।
ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশের জন্য এই মূল্যবৃদ্ধি বড় উদ্বেগের কারণ। তেলের দাম বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পেট্রোল-ডিজেলের দামও বাড়তে পারে, যা পরিবহন ও লজিস্টিক খরচ বাড়িয়ে মুদ্রাস্ফীতি আরও তীব্র করে তুলতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুধু ভারত নয়, এশিয়ার অন্যান্য বাজারেও একই চিত্র দেখা গিয়েছে। জাপানের নিক্কেই, দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি এবং হংকংয়ের হ্যাং সেং সবকটিই নিম্নমুখী প্রবণতায় লেনদেন করেছে। পাশাপাশি ওয়াল স্ট্রিটেও দুর্বলতার ইঙ্গিত মিলেছে, যেখানে ডাও জোন্স, এসঅ্যান্ডপি ৫০০ এবং নাসডাক ফিউচার সূচকগুলিতেও বড় পতন দেখা গিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। বাজারে এই অস্থিরতা কতদিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির উপর। তাই ঝুঁকি বুঝে বিনিয়োগ করা এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বজায় রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত বাজার বিশ্লেষকদের।
