
ওয়াশিংটন: ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত আন্তর্জাতিক রাজনীতি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবার সরাসরি চিনকে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তৃতীয় কোনও দেশের মাধ্যমে চিন নাকি ইরানকে অস্ত্র পাঠানোর চেষ্টা করছে। আর যদি এই অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে চিনের উপর ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানো হবে বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি।
এক মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টকে ঘিরে এই বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চিন ইরানকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য গোপন পথ ব্যবহার করতে পারে, যাতে সরাসরি কোনও দেশের নাম সামনে না আসে। এর মধ্যে অ্যান্টি-এয়ারক্রাফ্ট মিসাইল সিস্টেমসহ একাধিক সামরিক সরঞ্জাম থাকার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “যদি আমরা প্রমাণ পাই যে চিন এমন কাজ করছে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপানো হবে। এটা খুব বড় অর্থনৈতিক পদক্ষেপ।” পাশাপাশি তিনি চিনকে আমেরিকার কাছ থেকে কম দামে তেল কেনার প্রস্তাবও দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মহলে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ অতীতেও তাঁর শুল্কনীতি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলেছিল। বিভিন্ন দেশের উপর উচ্চ হারে ট্যারিফ আরোপের ফলে আগেও বাণিজ্য উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল।
এই পরিস্থিতিতে আগামী মে মাসে ট্রাম্পের চিন সফর এবং শি জিনপিংয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠককে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এই সফরের আগে ট্রাম্পের এমন কড়া বার্তা আলোচনার পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।
অন্যদিকে, চিনের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। ওয়াশিংটনে চিনা দূতাবাসের মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইরান বা অন্য কোনও দেশে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁদের দাবি, চিন কোনও সংঘাতে পক্ষ নেয় না এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই চলাচল করে।
ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার মাঝেই এই নতুন অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা এবং বিশ্ব জ্বালানি বাজারের উপর এর প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে আমেরিকা ও চিনের মধ্যে নতুন বাণিজ্য ও কূটনৈতিক উত্তেজনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
