
পাটনা: বিহারের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক পালাবদল। বুধবার বিহারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সম্রাট চৌধুরী। এর মাধ্যমে এই প্রথমবার হিন্দি বলয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য বিহারে এককভাবে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কোনও নেতা শীর্ষ পদে আসীন হলেন। পাটনার লোকভবনে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন সম্রাট চৌধুরীকে পদ ও গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান।
উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, রাজস্থান, উত্তরাখণ্ড এবং হরিয়ানার মতো হিন্দিভাষী রাজ্যগুলোতে বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী থাকলেও বিহার ছিল ব্যতিক্রম। সম্রাটের রাজ্যাভিষেকের ফলে সেই খরা কাটল। মঙ্গলবার পর্যন্ত উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে থাকা সম্রাট চৌধুরী এখন থেকে বিহারের প্রশাসনিক প্রধান।
মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দেন বিহারের দীর্ঘতম সময়ের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার। বর্তমানে তিনি রাজ্যসভার সদস্য। পদত্যাগের পর সমাজমাধ্যমে নীতিশ লিখেন, “এখন থেকে নতুন সরকার বিহারের কাজ দেখাশোনা করবে। নতুন সরকারের প্রতি আমার পূর্ণ সহযোগিতা ও পথপ্রদর্শন বজায় থাকবে।” তাঁর এই সরে দাঁড়ানোর ফলে বিহারের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ‘সুশাসন’ বা নীতিশ-যুগের অবসান ঘটল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
৫৭ বছর বয়সী সম্রাট চৌধুরী বিহারের প্রভাবশালী ওবিসি (OBC) সম্প্রদায় ‘কুশওয়াহা’ বা ‘কোয়েরি’ গোষ্ঠীর প্রতিনিধি। রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৬-৭ শতাংশ এই সম্প্রদায়ের। যাদবদের পর পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মধ্যে কুশওয়াহারাই সংখ্যায় সবচেয়ে বেশি। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, নীতিশ কুমারের দল জেডিইউ (JDU) থেকেই কুশওয়াহা সম্প্রদায়ের কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
১৯৬৮ সালে জন্ম নেওয়া সম্রাটের রক্তে রয়েছে রাজনীতি। তাঁর বাবা শকুনি চৌধুরী তারাপুর কেন্দ্র থেকে ছয়বারের বিধায়ক ছিলেন। মা পার্বতী দেবীও ওই একই আসনে জয়ী হয়েছিলেন। ১৯৯০ সালে সক্রিয় রাজনীতিতে আসা সম্রাট চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রাজনৈতিক দলবদলে বেশ পটু। লালু প্রসাদ যাদবের আরজেডি এবং নীতিশ কুমারের জেডিইউ হয়ে ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন।
বিহারের কুর্সিতে এই রদবদল কেবল একটি সরকারের পরিবর্তন নয়, বরং আগামী বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যে এনডিএ (NDA)-র এক নতুন রণকৌশলের সূচনা বলেই মনে করা হচ্ছে। সম্রাট চৌধুরীর নেতৃত্বে বিজেপি এখন বিহারে নিজেদের একক শক্তিতে কতখানি মজবুত করতে পারে, সেটাই দেখার বিষয়।
