
কেন্দ্রীয় সরকার লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভার আসন সংখ্যা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক সংশোধনী বিল সংসদে পেশ করতে চলেছে। এই বিল অনুযায়ী লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বেড়ে ৮৫০ হতে পারে এবং একইভাবে রাজ্য বিধানসভাগুলির আসন সংখ্যাও ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা আসন ২৯৪ থেকে বেড়ে ৪৪১ হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ রয়েছে।
সরকারের বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে একজন সাংসদের পক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রতিনিধিত্ব করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ভারসাম্য রক্ষার জন্য আসন পুনর্বিন্যাস ও বৃদ্ধি প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু জানিয়েছেন, শেষবার লোকসভার আসন বৃদ্ধি হয়েছিল ১৯৭১ সালে, তখন দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬০ কোটি। বর্তমানে জনসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কাঠামো পুনর্গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকেই কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য পূরণে ডিলিমিটেশন বা সীমানা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করতে চাইছে কেন্দ্র। এই কাজ সম্পন্ন করতে অন্তত তিন বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে বিরোধী দলগুলো এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এতে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির তুলনায় দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলির রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমে যাবে। তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এমকে স্টালিন অভিযোগ করেছেন, যেসব রাজ্য জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে, তারা ভবিষ্যতে আসন হারাতে পারে। কংগ্রেস নেতা পি চিদাম্বরমও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বিরোধীদের আরেকটি অভিযোগ, নতুন আসন বণ্টন বিজেপির নির্বাচনী স্বার্থকে প্রভাবিত করতে পারে এবং কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্য পরিবর্তন ঘটাতে পারে। অন্যদিকে কেন্দ্রের দাবি, প্রতিটি রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব অনুপাত বজায় রেখেই এই পরিবর্তন করা হবে এবং কোনো রাজ্যের আসন কমানো হবে না।
এই বিল পাস হলে দেশের নির্বাচনী মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। লোকসভা ও বিধানসভা উভয় স্তরেই নতুন কাঠামো তৈরি হবে, যা আগামী দশকের নির্বাচনী রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
