
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিল এবং আসন পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) সংক্রান্ত আলোচনায় তীব্র রাজনৈতিক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি এই বিলকে ভারতীয় সংসদের এক “ঐতিহাসিক মুহূর্ত” বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, মহিলা সংরক্ষণ বিল নারীদের ক্ষমতায়নে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নতুন দিশা দেখাবে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, এই বিল বহু আগেই, প্রায় ২৫–৩০ বছর আগে কার্যকর হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু বিভিন্ন অজুহাতে তা দীর্ঘদিন ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্যে তিনি বিরোধীদের উদ্দেশে বলেন, এখন আর বিলম্বের সময় নেই, উন্নয়নের পথে সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
মোদি লোকসভায় আরও বলেন, “যাঁরা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা করছেন, মেয়েরা তাঁদের ক্ষমা করবে না।” তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, এই বিরোধিতার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোকে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক মূল্যও দিতে হতে পারে।
বক্তৃতার সময় প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, “দেশের বোনেদের উপর আস্থা রাখুন এবং লোকসভায় তাঁদের জন্য ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করুন।” তাঁর মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু একটি দলের নয়, বরং সমগ্র দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রগতির প্রতিফলন।
বিরোধীদের উদ্দেশে মোদী বলেন, রাজনৈতিক সংঘাত ছেড়ে উন্নয়নের অংশীদার হওয়া উচিত। তাঁর দাবি, মহিলা সংরক্ষণ বিলকে রাজনৈতিক রং না দিয়ে এটিকে জাতীয় সাফল্য হিসেবে দেখা উচিত।
আসন পুনর্বিন্যাস প্রসঙ্গেও তিনি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন, যা ভবিষ্যতের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। লোকসভায় এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা, বিশেষ করে মহিলা ভোট এবং আসন বিন্যাসকে কেন্দ্র করে আগামী দিনের সমীকরণ কোন দিকে যাবে তা নিয়ে।
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই কড়া মন্তব্য সংসদের আলোচনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে।
