
সংসদের বিশেষ অধিবেশন শুরুর মুখে ডিলিমিটেশন বিলকে ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে। লোকসভার আসন সংখ্যা ৫৪৩ থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ করার লক্ষ্যে কেন্দ্র সরকার ১৩১তম সংবিধান সংশোধনী বিল পেশ করতে চলেছে। এই বিল পাশ হলে পরবর্তী পর্যায়ে লোকসভা ও বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে।
এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে বিরোধী শিবিরে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, কেন্দ্র কোনও বৃহত্তর আলোচনা ছাড়াই রাজনৈতিক স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে। বিশেষ করে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলিতে আসন সংখ্যা বেশি থাকায় শাসকদল রাজনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিরোধী নেতারা।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে উদ্যোগী হয়েছেন Rahul Gandhi। তিনি বিরোধী দলগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন, এই বিল আটকানো একটি “ঐতিহাসিক দায়িত্ব” এবং সে কারণে সব সাংসদদের সংসদে উপস্থিত থাকা জরুরি। বিশেষ করে All India Trinamool Congress-এর সাংসদদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বিরোধী বৈঠকে তৃণমূলের তরফে রাজ্যসভার সাংসদ সাগরিকা ঘোষ জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে ব্যস্ত থাকায় দলের সব সাংসদের পক্ষে দিল্লিতে উপস্থিত থাকা কঠিন। এই বক্তব্যের পরই রাহুল গান্ধী জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক লড়াইয়ের এই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সব দলকেই প্রচার ছেড়ে সংসদে উপস্থিত থাকতে হবে।
তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের বদলে, রাহুল গান্ধী Uddhav Thackeray-কে অনুরোধ করেন Mamata Banerjee-র সঙ্গে কথা বলতে, যাতে তৃণমূলের সব সাংসদ অধিবেশনে যোগ দেন। তবে এই বিষয়ে তৃণমূলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও জানা যায়নি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের সামনে এখন দ্বিধার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে সংসদে উপস্থিত না থাকলে বিরোধী ঐক্যে ফাটল ধরার অভিযোগ উঠতে পারে, অন্যদিকে সাংসদদের দিল্লিতে পাঠালে নির্বাচনী প্রচারে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতিমধ্যেই তৃণমূলের দুই সাংসদ মহুয়া মৈত্র ও কীর্তি আজাদ দিল্লিতে পৌঁছেছেন বলে সূত্রের খবর।
অন্যদিকে দক্ষিণ ভারতের দলগুলিও এই বিলের বিরোধিতায় সরব। M. K. Stalin নেতৃত্বাধীন ডিএমকে তাদের সব সাংসদকে সংসদে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়ায় দক্ষিণের রাজ্যগুলি আসন বণ্টনে বঞ্চিত হতে পারে।
ডিলিমিটেশন বিল শুধু একটি আইন প্রস্তাব নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির অন্যতম বড় সংঘর্ষের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আগামী কয়েকদিনে সংসদের ভিতরে এই ইস্যুতে তীব্র বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
