
আসন্ন ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই পরিস্থিতিতে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং মানহানিকর মন্তব্য করার মতো একাধিক অপরাধে জড়িত তিনি।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি একটি ভিডিও সামনে আসে যেখানে হুমায়ুন কবীরকে একটি সাংবাদিক বৈঠকে বক্তব্য রাখতে দেখা যায়। সেই বক্তব্যে তিনি দলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ একাধিক নেতার বিরুদ্ধে কুরুচিকর ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁর বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও রয়েছে যা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, হুমায়ুন কবীরের মন্তব্য ভোটারদের মনে ভীতি তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করার সম্ভাবনা রাখে। এমনকি প্রতিপক্ষের সমর্থকদের উদ্দেশে প্রাণনাশের হুমকির মতো ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যও তিনি দিয়েছেন বলে অভিযোগ। এই ধরনের আচরণ নির্বাচনী বিধির সরাসরি লঙ্ঘন বলেই মনে করছে তৃণমূল।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আচরণবিধি অনুযায়ী, কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল এমন কোনও মন্তব্য করতে পারে না যা সমাজে বিভাজন তৈরি করে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বা ভোটারদের প্রভাবিত করতে চায়। পাশাপাশি ভুয়ো তথ্য ছড়ানো, ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কটাক্ষ করা বা প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ তোলাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তৃণমূলের অভিযোগ, এই সমস্ত নিয়মই লঙ্ঘন করেছেন হুমায়ুন কবীর।
শুধু নির্বাচন আচরণবিধি নয়, নতুন ফৌজদারি আইনের একাধিক ধারাও ভাঙা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে মানহানি, অপরাধমূলক ভয় দেখানো এবং নির্বাচনে অযাচিত প্রভাব খাটানোর চেষ্টা।
এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। প্রথমত, হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করার আবেদন জানানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বিষয়টি খতিয়ে দেখে অবিলম্বে মামলা দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার দাবিও তোলা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আবেদন জানিয়েছে দল।
এখন নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের।
