
নয়াদিল্লি: রাশিয়া ও ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার ক্ষেত্রে দেওয়া সাময়িক ছাড় আর বাড়াবে না মার্কিন প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, পূর্বে দেওয়া বিশেষ লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর নতুন করে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতসহ একাধিক এশীয় দেশের জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১১ মার্চ থেকে রুশ তেলের ক্ষেত্রে এবং ১৯ এপ্রিল থেকে ইরানি তেলের ক্ষেত্রে আগের দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এতদিন এই সুবিধার আওতায় ভারতীয় শোধনাগারগুলো আগে থেকে ট্যাঙ্কারে মজুত থাকা রুশ তেল আমদানি করতে পারছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই পথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
আমেরিকার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাময়িকভাবে এই ছাড় দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতি আর নেই বলেই নতুন করে অনুমোদন দেওয়া হবে না।
ভারতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে ভারত রুশ তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা হয়ে উঠেছিল। বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী, ছাড়ের সময়কালে ভারত কয়েক কোটি ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছিল, যার ফলে তুলনামূলকভাবে কম দামে জ্বালানি নিশ্চিত করা গিয়েছিল।
তবে নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতীয় তেল পরিশোধন সংস্থাগুলিকে এখন বিকল্প উৎসের দিকে ঝুঁকতে হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের চাহিদা ও দাম উভয়ই বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। ইতিমধ্যেই বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তার ছায়া দেখা দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু তেলের দাম নয়, পরিবহন, উৎপাদন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জ্বালানি খরচেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলির জন্য এটি একটি বড় চাপ হয়ে উঠতে পারে।
অন্যদিকে, মার্কিন নীতির সমর্থকদের যুক্তি, রাশিয়া ও ইরানের উপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রাখতে এই ধরনের ছাড় প্রত্যাহার জরুরি ছিল। এতে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণেও নতুন মোড় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার এই সিদ্ধান্তে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে নতুন অনিশ্চয়তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে এবং আগামী দিনে এর প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
