নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে শনিবার গুজরাট টাইটানস তাদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে ৩৬ রানে হারিয়ে দিল। এই জয়ের ফলে গুজরাট উঠে এসেছে আইপিএল পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে, অন্যদিকে মুম্বই টানা দুই হারের ধাক্কায় নেমে গেছে নবম স্থানে। গুজরাটের হয়ে সাই সুদর্শনের দুর্দান্ত ব্যাটিং এবং মোহাম্মদ সিরাজের আগ্রাসী বোলিং দলের জয়ের ভিত গড়ে দেয়।
মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পাণ্ডিয়া টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন, প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন তিনি। গুজরাটের হয়ে ইনিংসের সূচনা করেন শুভমন গিল ও সাই সুদর্শন। প্রথম দিকেই দুজন কিছু আক্রমণাত্মক শট খেলেন, যার ফলে গুজরাট শক্ত ভিত পেয়ে যায়। গিল বেশ আত্মবিশ্বাসী দেখাচ্ছিলেন, তবে নবম ওভারে হার্দিকের একটি বল তিনি ঠিকমতো নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে ক্যাচ দিয়ে বসেন। ২৭ বলে ৩৮ রানের ইনিংস খেলে তিনি বিদায় নিলে দল প্রথম ধাক্কা খায়। তবে সুদর্শন উইকেটে টিকে থেকে দলের ইনিংসকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন।
সুদর্শনের সঙ্গে ব্যাটিংয়ে নামেন জস বাটলার, যিনি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকেন। মাত্র ২৪ বলে ৩৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন তিনি। তবে ১৪তম ওভারে মুজিব উর রহমানের স্পিনে বিভ্রান্ত হয়ে ক্যাচ তুলে দেন এবং সাজঘরে ফেরেন।
অন্যদিকে, সুদর্শন ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়তে থাকেন। তার ব্যাট থেকে আসে ৪১ বলে ৬৩ রান, যা গুজরাটের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। তবে ১৮তম ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের এক নিখুঁত ইয়র্কারে এলবিডব্লু হয়ে তিনি বিদায় নেন। তখন গুজরাটের স্কোর ১৭৯/৪। শেষ দুই ওভারে ব্যাটসম্যানরা বড় শট খেলতে চাইলেও দ্রুত উইকেট হারিয়ে ফেলে। মাত্র ১৭ রান যোগ করেই ২০ ওভারের শেষে দল থামে ১৯৬ রানে, যা প্রতিপক্ষের জন্য লড়াই করার মতো লক্ষ্য দাঁড় করায়।
১৯৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। প্রথম ওভারেই মোহাম্মদ সিরাজের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে যান রোহিত শর্মা, যা দলের ওপর চাপ বাড়িয়ে দেয়। এরপর চতুর্থ ওভারে রায়ান রিকেলটনও সিরাজের শিকার হলে মুম্বই আরও সমস্যায় পড়ে। তবে তিলক বর্মা ও সূর্যকুমার যাদব জুটি বাঁধার চেষ্টা করেন এবং ইনিংসকে সামনের দিকে এগিয়ে নেন।
তবে দলীয় ১০০ রানের আগেই তিলক আউট হয়ে যান, যা মুম্বইয়ের বিপদ আরও বাড়িয়ে তোলে। সূর্যকুমার অবশ্য প্রতিরোধ গড়ে ২৮ বলে ৪৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন, কিন্তু ১৬তম ওভারে তিনিও ফিরে যান। তখন দলের স্কোর ১২০ রানে ৫ উইকেট, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। গুজরাটের বোলাররা চাপ ধরে রেখে মুম্বইয়ের ব্যাটিং লাইনআপকে ব্যর্থ করে দেন, ফলে ম্যাচ ক্রমশ তাদের দখলে চলে যায়।
শেষ চার ওভারে মুম্বইয়ের প্রয়োজন ছিল ৭৬ রান, যা কার্যত অসম্ভব হয়ে ওঠে গুজরাটের বোলিং আক্রমণের সামনে। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা ও সাই কিশোরের নিখুঁত লাইন-লেংথে বল করে মুম্বই ব্যাটারদের বড় শট খেলতে বাধা দেয়। ক্রিজে থাকা ব্যাটাররা চেষ্টা করলেও রান তোলার গতি ধরে রাখতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারিয়ে চাপ বাড়তে থাকে মুম্বইয়ের ওপর। নির্ধারিত ২০ ওভারে তারা থেমে যায় ১৬০ রানে, যা গুজরাটের দেওয়া লক্ষ্যের চেয়ে ৩৬ রান কম।
গুজরাটের বোলারদের পরিকল্পিত বোলিং ও ফিল্ডিং তাদের জয় নিশ্চিত করে। পুরো ম্যাচ জুড়ে গুজরাটের দলগত পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসনীয়। ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—সব বিভাগেই আধিপত্য বিস্তার করে তারা। মুম্বইয়ের ব্যাটিং লাইনআপ শক্তিশালী হলেও গুজরাটের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা হার মানে। এই দাপুটে জয় গুজরাটকে লিগ টেবিলের তৃতীয় স্থানে নিয়ে গেছে, যা তাদের প্লে-অফের দৌড়ে আরও এগিয়ে দিল।
