বছর ঘুরলে বিহারে বিধানসভা ভোট। কিন্তু শাসকজোট এনডিএ কাকে সামনে রেখে লড়বে তা স্পষ্ট ছিল না এত দিন। প্রথম কারণ, বর্তমান নেতা তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে নানা জল্পনা। দ্বিতীয় কারণ, মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার নিয়ে বিহার বিজেপিতে ক্ষোভ। এই পরিস্থিতিতে লালুপ্রসাদ যাদবের শক্ত ঘাঁটিতে দাঁড়িয়ে কার্যত ক্যাপ্টেনই বেছে দিয়ে গেলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা সরকার এবং বিজেপিতে ‘নম্বর- টু’ অমিত শাহ। জল্পনা কার্যত উড়িয়ে ভরামঞ্চ থেকে শাহ জয়ের ব্যাপারে একশো শতাংশ আশাবাদী হওয়ার পাশাপাশি বলে গেলেন, মুখ্যমন্ত্রী নীতীশের নেতৃত্বেই বিহারে আবার ক্ষমতায় আসবে এনডিএ
এনডিএ জোটে জেডিইউ ছোট দল। বছরের পর বছর ধরে সেই দলেরই নেতা নীতীশ বিহারের মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়ে বিহার বিজেপিতে অসন্তোষ ছিল। তাতে ঘি ঢালে নীতীশের মানসিক ভারসাম্য নিয়ে ওঠা প্রশ্ন। তাই বিহার বিজেপিতে জল্পনা ছিল ষোলোআনা। শাহি সফরে সেই প্রশ্নের উত্তর মিলল কি?
সভা ছিল গোপালগঞ্জে। লালুপ্রসাদের শক্ত ঘাঁটি থেকে কি এ বছরের শেষে হতে চলা বিধানসভা ভোটে এনডিএর নেতার নাম ঘোষণা করবেন শাহ? উদ্দীপনায় টগবগ করে ফুটতে ফুটতে মাঠ ভরাতে কসুর করেননি বিজেপি সমর্থকেরা। ভরা সভা থেকে শাহ তীব্র আক্রমণ শানালেন লালু-আমলকে। মনে করালেন জঙ্গলরাজের কথা। বিঁধলেন পরিবারতন্ত্রকে, সেই সূত্রে গেঁথে নিলেন লালুপুত্র তেজস্বীকে। জানিয়ে দিলেন, গত দু’দশকে কেন্দ্র বিহার নিয়ে অনেক বেশি তৎপর। কারণ ক্ষমতায় নীতীশের নেতৃত্বে এনডিএ সরকার। তার পরেই ভোটের দামামা বাজিয়ে শাহ বলেন, “আমি আশা করব, এ বছরের শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের নেতৃত্বে বিহারে আবার ক্ষমতায় আসবে এনডিএ।” এতেই স্পষ্ট হয়ে যায়, বিহারে নেতাবদল নিয়ে আপাতত অন্য কিছু ভাবছেন না মোদী-শাহ।
২০ বছর ক্ষমতায় থেকেও মুখ্যমন্ত্রী না হতে পারা বিহার বিজেপি এর পরেও আশাবাদী। তার কারণ, শাহেরই বলা একটা কথা। বিহার বিজেপির একটা বড় অংশ মনে করছে, নীতীশের নেতৃত্বে ক্ষমতায় আসার কথা বলেছেন শাহ, মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন তা বলেননি। শাহের না বলা শূন্যস্থান নিজেরাই পূরণ করে নিয়েছে বিহারের পদ্মশিবির। কিন্তু কপালে ভাঁজও আছে। বিহারের সঙ্গে ইদানীং বন্যা কথাটা সমার্থক হয়ে উঠেছে। ফি বছর বন্যায় রাজ্য ভাসে। তবুও ভ্রুক্ষেপ নেই সরকারের। গ্রাম থেকে শহর, জমা জলে হাবুডুবু খায়। ক্ষুব্ধ মানুষের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের। অসন্তোষ টের পেয়েই শাহ গোপালগঞ্জের সভা থেকে ঘোষণা করেছেন, জিতে ফিরে ৫ বছরের মধ্যে বিহারকে বন্যামুক্ত করে দেওয়া হবে।
শাহি ভাষণকে অবশ্য পাত্তা দিচ্ছে না লালুর দল আরজেডি। মুখপাত্র শক্তি সিংহ যাদব পাল্টা শাহকেই গুজরাতে জঙ্গলরাজ চালানোর নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর প্রশ্ন, বিহারের জন্য কেন্দ্রের মোদী সরকার গত ২০ বছরে কী করেছে? বিহারের মানুষের পরিযায়ী শ্রমিক হওয়া ঠেকাতে কী পদক্ষেপ করেছেন মোদীজি?
অমিত শাহ নিজেও জানেন বিহারে এ বার লড়াই কঠিন। নীতীশকে নিয়ে টানাপড়েনের পাশাপাশি বেকারত্ব নিয়ে জনঅসন্তোষ ক্রমশ ডানা মেলছে। দানা বাঁধছে প্রতিষ্ঠানবিরোধী মেঘ। তার মোকাবিলা করা সহজ না। তাই আগেভাগেই সংগঠনকে ‘মিশন মোডে’ ঢুকে পড়ার নির্দেশ।
