সোমবার ঈদের সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র রেড রোডে নামাজ আদায় করতে এসেছিলেন মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষেরা। ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন মঞ্চে। ডায়মন্ড হারবারের সংসদ তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। মঞ্চ থেকে মমতার বার্তা,”আমি হিন্দু, আমি মুসলিম, আমি শিখ ও দিন শেষে আমি একজন ভারতীয়”।
রেড রোডের মন্ত্র থেকে এদিন রাজ্যের দুই বিরোধী দল তথা বিজেপি এবং সিপিএমকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে শোনা গেল রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি এদিন বলেন, “রাম-বাম আমাকে প্রশ্ন করে, আমি হিন্দু কিনা? আমি উত্তর দিয়েছি, আমি হিন্দু, মুসলিম, শিখ ও দিনশেষে ভারতীয়। এরা কী চায়? শুধু বিভাজনের রাজনীতি করে। আমি নিজের জীবন দেশের জন্য ত্যাগ করেছি।”
রামনবমীর আগেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে শোনা গিয়েছিল,”কেউ কেউ অশান্তি চায়, দাঙ্গা চায়। তাদের প্ররোচনায় পা দেবেন না।” ইতিমধ্যেই রামনবমীকে কেন্দ্র করে রাজ্য জুড়ে রাজনীতির পারদ চরমে। এরই মধ্যে সম্প্রীতিকে হাতিয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী সোমবার রেড রোডের ভাষণে বলেন,”খুশির ইদে, ঘরে সুখ আনুন। দাঙ্গার প্ররোচনা নয়। এটা ওদের একটা পরিকল্পনা। এই খেলায় পা দেবেন না। যদি কেউ কিছু বলে, মনে রাখবেন আপনাদের সঙ্গে দিদি আছে, অভিষেক আছে, এই গোটা সরকার আছে। কেউ আপনাদের কিছু করতে পারবে না।”
বিজেপিকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”ওদের কথায় কান দেবেন না। ওদের কথা উত্তর সময় এলে দেবেন। কিন্তু এখন ওদের কোনও ভাবে ছোঁবেন পর্যন্ত না।” এছাড়াও রাজ্যের বিরোধী দল গুলোর বিরুদ্ধে বিভাজনের রাজনীতির অভিযোগ তুলে মমতা বলেন,”কে কী পরবে, কে কী খাবে, সবেতেই ওদের নজরদারি চালাতে হয়। নবরাত্রি চলছে, আমি তাদেরকেও শুভেচ্ছা জানাই। কিন্তু আমি চাই না রাজ্য়ে কোনও ভাবে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হোক। দাঙ্গা কখনওই সাধারণ মানুষ করে না, রাজনৈতিক দলগুলো করে।” তাঁর কথায়, “আমি স্বামী বিবেকানন্দের ধর্ম পালন করি, রামকৃষ্ণের ধর্ম পালন করি। কিন্তু ওরা যে ধর্মটা বানিয়েছে ওটা আমি মান্যতা দিই না। ওটা হিন্দু ধর্ম-বিরোধীও।”
