কলকাতা শহর জুড়ে এবার নরেন্দ্র মোদী এবং শুভেন্দু অধিকারীর ছবি দেওয়া পোস্টার। পোস্টারের নিচে লেখা, “রামনবমী পালন করুন”। এই পোস্টারে ছেয়ে গেছে কলকাতা। ‘রামনবমী পালন করুন’ লেখা পোস্টার দেওয়া হয়েছে কলকাতা শহরের প্রত্যেকটা জায়গায়। সেই নিয়েই শুরু তুমুল বিতর্ক। রামনবমীর পোস্টারে কেন প্রধানমন্ত্রী এবং বিরোধী দলনেতার ছবি? ধর্মীয় উৎসবকে সামনে রেখে রাজনীতি বড়ই বেমানান। বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ধর্মীয় মেরুকরণের চেষ্টা বলে দাবি করা হচ্ছে।
আজ সোমবার দেশ জুড়ে ঈদ উৎসব পালিত হচ্ছে। বাদ যায়নি বাংলা। আর আজকের দিনে কলকাতা শহর জুড়ে এই ধরনের পোস্টার দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। তৃণমূলের দাবি, সাম্প্রদায়িকতার সুখের সামনে নিয়ে আসার চক্রান্ত করছে বিজেপি। সেই কারণেই এই ধরনের পোস্টার দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করছে। তাই ঈদের দিন থেকেই এই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। যদিও বিষয়টিকে বিভাজনের রাজনীতি বলে মানতে রাজি নয় বিজেপি।
এ বিষয়ে কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম জানান,”এখন দেখছি, ওরা একটা নতুন ইস্যু তৈরি করছে। সেটা সাম্প্রদায়িকতার ইস্যু। কিন্তু এখন এটাতে খুব বেশি লাভ হবে না। এভাবে ভোট পাওয়া যায় না।”২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন বাংলায়। তার আগে হিন্দু ফুটকে একজোট করতে চাই বিজেপি। দিন কয়েক আগে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তিনি হিন্দুদের ভোটে জিতেছেন। বাংলার ক্ষমতায় এলে শাসকদলের সংখ্যালঘু নেতাদের চ্যাংদোলা করে ছুড়ে ফেলার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেছেন, রামনবমীতে অস্ত্র নিয়ে মিছিল হবে। তার উপরে কলকাতা জুড়ে রামনবমীর পোস্টারে রাজনীতির ছাপ। দুইদিন আগে রাজ্য পুলিশ সাংবাদিক বৈঠক করে সতর্ক করে দিয়েছিল, শহরে উস্কানিমূলক পোস্টার ফেলতে পারে কোনও একটি রাজনৈতিক দল। তাতে মানুষ যেন পা না দেন। কিংবা প্ররোচিত না হন। এপ্রিলের শুরুতেই রামনবমী। সেই সময় আবারও পোস্টার দেওয়া হবে, অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলবে। তাই দুই দুঁদে আইপিএস অফিসার সুপ্রতিম সরকার এবং জাভেদ শামিম মানুষকে সতর্ক থাকতে বলেছিলেন। সেটাই যেন মিলে গেল।
এই নিয়ে বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বক্তব্য, “এটা কোনও রাজনৈতিক অনুষ্ঠান নয়। আমি একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। আমি যদি কারও বিয়েতে যাই, তাহলে সেটা রাজনৈতিক অনুষ্ঠান হতে পারে না। আমাকে যদি ডাকে রামনবমীর মিছিলে হাঁটতে। তাহলে আমি অবশ্যই হাঁটব। একজন হিন্দু হিসাবে অবশ্যই হাঁটব। আমরা যে জয় শ্রী রাম বলি, এটা কোনও ধার্মিক স্লোগান নয়। ভুল করে ওরা।”
