স্নিগ্ধা চৌধুরী
আবারও নিয়োগ দুর্নীতি! এবার রাজ্যের মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধে উঠল চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL)-এর রিপোর্টে ফাঁস হল এমন এক তথ্য, যা প্রমাণ করছে যোগ্য প্রার্থীদের ঠেকিয়ে ‘অযোগ্য’ প্রার্থীদের বসানো হচ্ছে কাঙ্খিত পদে।
একাধিক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ, তাঁদের OMR শিটে ইচ্ছাকৃত কারচুপি করা হয়েছে। রিপোর্টে উঠে এসেছে, পরীক্ষার্থী সঠিক উত্তরে দাগ দিলেও পরবর্তীতে সেই উত্তরের উপর আরেকটি ভুল দাগ দেওয়া হয়। ফলে কম্পিউটার স্ক্যানের সময় সঠিক উত্তরও ভুল বলে গণ্য হয়। নেগেটিভ মার্কিং-এর ফাঁদে ফেলে যোগ্য পরীক্ষার্থীদের ছেঁটে ফেলা হয়।
এক পরীক্ষার্থীর চিঠি থেকে জানা যায়, ‘আমি অপশন বি-তে দাগ দিয়েছিলাম, কিন্তু কীভাবে সি-তে দাগ চলে এল? আপনারা পরিকল্পিতভাবে এটা করেছেন।’
এই চক্রের পেছনে কারা? মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন কি এই দুর্নীতির মূল হোতা, নাকি উচ্চপর্যায় থেকে কোনও চাপ রয়েছে? এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে চাকরিপ্রত্যাশীদের মনে। এই একই ধরণের অভিযোগ রাজ্যের স্কুল সার্ভিস কমিশনের বিরুদ্ধেও উঠেছিল। ওএমআর স্ক্যান জালিয়াতির অভিযোগে এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানির নাম জড়িয়েছিল। সেই মামলার নিষ্পত্তি হয়নি এখনও। তার মধ্যেই মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের এই দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
তাহলে কি টাকার বিনিময়ে যোগ্যদের পিছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে? পরীক্ষার্থীরা দাবি তুলছেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ করা হোক। প্রয়োজনে তদন্ত হোক কেন্দ্রীয় সংস্থার মাধ্যমে। আদালতে মামলা গড়ানোর সম্ভাবনাও প্রবল।
শিক্ষা দপ্তর কি এবার কোনও পদক্ষেপ নেবে? নাকি রাজনৈতিক প্রভাবেই এই কেলেঙ্কারির উপর ধামাচাপা পড়বে? প্রশ্নটা এখন গোটা রাজ্যের।
