ভারত প্রতিরক্ষা খাতে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে চলেছে। দেশের সামরিক শক্তিকে আরও উন্নত করতে ভারতীয় সেনাবাহিনী ৮০০ কিলোমিটার পাল্লার ২৫০টি ব্রহ্মস সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল কেনার পরিকল্পনা করছে। এই উন্নত মিসাইলগুলি সেনার আগ্রাসী প্রতিরক্ষা কৌশলকে আরও শক্তিশালী করবে এবং সীমান্ত রক্ষায় নতুন মাত্রা যোগ করবে।
ব্রহ্মস মিসাইল ভারতের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র, যা যৌথভাবে ভারত ও রাশিয়া তৈরি করেছে। এটি সুপারসনিক গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম, ফলে শত্রুপক্ষ প্রতিরোধ গড়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। নতুন সংস্করণের মিসাইলগুলি আগের তুলনায় অনেক বেশি পাল্লার, যার ফলে যুদ্ধের সময় শত্রু ঘাঁটি ধ্বংস করতে আরও কার্যকরী হবে।
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (DRDO) এবং রাশিয়ার NPO Mashinostroyenia যৌথভাবে এই মিসাইল উন্নত করেছে। এটি স্থল, জল ও আকাশ— তিন ক্ষেত্রেই ব্যবহারযোগ্য, যা ভারতীয় সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বহুগুণে বাড়িয়ে তুলবে। বিশেষ করে, এই মিসাইল ভারতীয় নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর শক্তি আরও বৃদ্ধি করবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রহ্মস মিসাইলের নতুন সংস্করণ ভারতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে। এটি কেবল প্রতিরক্ষার জন্য নয়, শত্রুপক্ষের আগ্রাসনের জবাব দিতে আক্রমণাত্মকভাবে ব্যবহৃত হতে পারে। ৮০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তু নির্ভুলভাবে ধ্বংস করতে পারার ক্ষমতা থাকায়, এটি ভারতের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা অস্ত্র হয়ে উঠবে।
বর্তমানে ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে বিভিন্ন পাল্লার ব্রহ্মস মিসাইল রয়েছে, তবে নতুন এই সংস্করণ আরও আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি। এতে উন্নত গাইডেন্স সিস্টেম, বাড়তি ধ্বংস ক্ষমতা এবং দ্রুত লক্ষ্যভেদ করার দক্ষতা থাকবে। ফলে শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দিয়ে এটি আরও সফলভাবে আঘাত হানতে পারবে।
বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভারত ক্রমাগত উন্নতি করছে। এই নতুন মিসাইল কেনার সিদ্ধান্ত দেশের প্রতিরক্ষা কৌশলে এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হবে। এর ফলে ভারতীয় সেনা আরও শক্তিশালী অবস্থানে থাকবে এবং ভবিষ্যতে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বড় ধরনের প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই মিসাইলগুলি ভারতীয় সেনাবাহিনীতে যুক্ত হবে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ব্রহ্মস মিসাইলের এই নতুন সংস্করণ ভবিষ্যতে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
