বাংলাদেশে যথাসময়ে নির্বাচন না হলে এবার দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে বলে সতর্ক করল খালেদা জিয়ার দল বিএনপি।কোটা সংরক্ষণ বিরোধী আন্দোলন রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠতেই ২০২৪ সালের অগস্ট মাসে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতন হয়। বাংলাদেশে গড়ে ওঠে মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু এই তদারকি সরকার কতদিন চলবে? কবে হবে নির্বাচন? এইসব প্রশ্ন এখন পদ্মাপারের মানুষের মনে উঠতে শুরু করেছে। দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার গড়ার দাবি তুলেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল।
এমন পরিস্থিতিতে দুটি সম্ভাব্য সময় জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস।মার্চের শেষেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জানিয়েছেন এবছর ডিসেম্বর থেকে আগামী বছর জুনের মধ্যে বাংলাদেশে নির্বাচন হবে। তাঁর কথায়, তাঁরা চান আগামী নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হোক। এজন্য নির্বাচন কমিশন সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তিনি আরও জানান বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা সীমাহীন দুর্নীতি। অন্তর্বর্তী সরকার সব কাজ দুর্নীতিমুক্ত করতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন মুহাম্মদ ইউনূস।
এদিকে নানা কাজে দেরি না করে দ্রুত নির্বাচনের দাবি তুলেছে বিএনপি। তাঁদের দাবি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হোক। না হলে ‘জনগণের মধ্যে জোরালো অসন্তোষ’ এবং দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে বলে সতর্ক করেছে বিএনপি।প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী নির্বাচন পিছিয়ে ২০২৬ সালে যেতে পারে—বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের এমন কথার পরিপ্রেক্ষিতেই বিএনপির পক্ষ থেকে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
বিএনপি নেতা আবদুল মঈন খান জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত একটি সরকার চায় বিএনপি। তাঁর মতে, ডিসেম্বরে নির্বাচনের বিষয়ে সবাই একমত হয়েছে।তাঁর দাবি নির্বাচন কোনও কারণে ডিসেম্বরের পর চলে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠবে। বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হবে এবং অস্থিরতা হতে পারে।
যদিও অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন উপদেষ্টা পরিষদের প্রাক্তন সদস্য ও ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলাম মার্চের শুরুতেই জানান যে বাংলাদেশে বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশিং ব্যবস্থায় আমি মনে করি না একটি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব হবে।
Leave a comment
Leave a comment
