রবিবার গভীর রাতে ইকো আরবান গ্রামের কাছে ১৪ নম্বর জলাশয়ের ধারে এক টোটো চালকের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে এই ভয়াবহ দৃশ্য সামনে আসতেই স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিহত ব্যক্তির নাম সুশান্ত ঘোষ (৪৩) ।
কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, সম্ভাব্য সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আকস্মিক এই হত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। নিউটাউনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ভারী কোনও বস্তু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয় সুশান্তকে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে সুশান্তের গলা ও শরীরের সংবেদনশীল অংশে মারাত্মক আঘাত করা হয়, যা ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু নিশ্চিত করে। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, সন্দেহভাজন হিসেবে ১৬ বছর বয়সী দুই কিশোরকে আটক করা হয়।
দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর, তারা স্বীকার করেছে যে এই হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং প্রতিশোধের উদ্দেশ্যেই ঘটানো হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতার হওয়া কিশোরদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যার কারণ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
নিহতের পরিবার জানিয়েছে, সুশান্তের এক বিবাহিত মহিলার সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ, সম্প্রতি তিনি ওই মহিলার নাবালিকা কন্যার প্রতি অশোভন আচরণ করেন। বিষয়টি জানার পর মেয়েটির প্রেমিক প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
রবিবার রাতে টোটো ভাড়ার কথা বলে সুশান্তকে এক নির্জন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিকল্পিতভাবে তাকে আক্রমণ করা হয় এবং নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। প্রথমে ভারী কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়, তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করা হয়।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তারা হত্যার কথা স্বীকার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। বিধাননগর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার (নিউটাউন) মানব স্রিংলা জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে সুশান্ত ঘোষের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে, যা তদন্তের পরবর্তী দিক নির্দেশ করবে। পুলিশ ইতোমধ্যেই সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে দুই কিশোরকে আটক করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তে এ পর্যন্ত যে তথ্য মিলেছে, তা থেকে পুলিশের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং হত্যার পেছনে অন্যান্য কারণগুলি পরিষ্কারভাবে জানা যাবে, যা এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পুরোপুরি তদন্তে সাহায্য করবে।
