পরিতোষ সাহা : বাঁকুড়া
নিয়ম অনুযায়ী সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিয়ে রোগীকে দেবার মুহুর্তেয় দেখা দিল বিপদ।রক্তের মেয়াদ ফুরিয়ে গেছে আগেই।যা ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক।কীভাবে একটি সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে মেয়াদ উত্তীর্ণ রক্ত মজুত থাকে? কী করেই বা রক্ত সংগ্রহের দিন থেকে মেয়াদ উত্তীর্ণের দিন এক বছর দুই মাস হল?এমনই অদ্ভুত ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার কেশপুরের বাসিন্দা গৌড় ঘোষ শারিরীক অসুস্থতার কারণে জেলার এক বেসরকারী নার্সিংহোমে ভর্তি।প্রয়োজন ”O নেগেটিভ”রক্তের। কিন্তু জেলার বিভিন্ন জায়গায় এই রক্ত না মেলায়, রোগীর আত্মীয়রা বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালে যোগাযোগ করলে “O নেগেটিভ ” রক্ত মজুত আছে বলে জানতে পারেন।নিয়ম অনুসারে ডোনার (রক্ত দাতা) এনে তার পরিবর্তে একটি “O নেগেটিভ” রক্তের প্যাকেট নিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর চলে যান।চিকিৎসক রক্ত দিতে গিয়ে দেখেন,রক্তের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।সরকারি হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রোগীয় আত্মীয়রা যে রক্তের প্যাকেটটি নিয়ে এসেছিলেন।সেই প্যাকেটের গায়ে রক্তের সংগ্রহের তারিখ ছিল “২৬/০২/২৫” এবং মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ ছিল “০২/০৪/২০২৬”।চিকিৎসক জানান,“নিয়ম অনুসারে রক্ত সংগ্র হের দিন থেকে ৩৫-৪২ দিন পর্যন্ত এর মেয়াদ থাকে।এই দিনের মধ্যে কোন রোগীকে সেই রক্ত দেওয়া হয়।কিন্তু রক্ত সংগ্রহের দিন থেকে কীভাবে এই রক্তের উত্তীর্ণের মেয়াদ এক বছর দু’মাস লেখা হল?কার গাফিলতিতে এই ঘটনা ঘটলো?ফলে এই রক্ত রোগীকে আর দেওয়া হয়নি।
বাধ্য হয়েই রোগীর আত্মীয়রা রবিবার রাতেই বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্কে রক্ত ফিরিয়ে নিয়ে আসেন।ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্তব্যরত নার্স বলেন,“তিনি দিনের শিফটে ছিলেন না।তবে রক্তের গায়ে তারিখ ভুল ছিল।ব্লাড ব্যাঙ্কের উচিৎ ছিল তারিখ যাচাই করে দেওয়া এবং রোগীদেরও উচিৎ তারিখ দেখে নেওয়া”।কিন্তু একজন বিপন্ন রোগীর আত্মীয়রা যখন কোন সরকারী হাসপাতালের ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে রক্ত নিতে যান,তখন কি তারিখ দেখা আদৌ সম্ভব?তাহলে ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা কী করেন? কী করেই বা মেয়াদের সময় এক বছর দু’মাস লেখা হয়?
রোগীর আত্মীয় সুশান্ত কোলে বলেন,“ আমরা রোগীর জন্য হন্যে হয়ে রক্ত খুঁজছি।কিন্তু যখন খবর পেলাম,সেখান থেকে রক্ত নিয়ে আমরা বেরিয়ে গিয়েছি।চিকিৎসক যদি না দেখতেন তাহলে বড় বিপদ ঘটত।এই ভুল তারিখ দেওয়ার জন্য অনেক রোগীর জীবন বিপন্ন হয়ে যেতে পারে।”
কিন্তু এই দায়ভার কার? রক্তের মতো এক মূল্যবান জিনিসে এই মারাত্মক ভুল নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক।
