সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়
ভুতুড়ে ভোটার বা ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড নম্বর ইস্যুতে কোণঠাসা হয়ে এবার দেশজুড়ে গা উজাড় করে ভূত তাড়াতে নেমেছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। দফায় দফায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে রাজ্যের সমস্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক এর দপ্তরে সর্বদলীয় বৈঠকের পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় জেলায় বি এল ও অথবা ব্লক লেভেল অফিসার এবং ইআরও অথবা ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের প্রশিক্ষণের ও ব্যবস্থা করেছিল নির্বাচন কমিশন। জেলায় জেলায় মূলত ডিইও অথবা ডিস্ট্রিক্ট ইলেকশন অফিসার যিনি একই সঙ্গে জেলা শাসকের দায়িত্ব পালন করেন তার তত্ত্বাবধানে এই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের একাধিক রাজ্যে বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে শাসকদল তৃণমূলের উদ্যোগে ব্লকে ব্লকে যেভাবে ভোটার তালিকায় ভূত ধরার রাজনৈতিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হযেছে তাতেই চাপে পড়েছে নির্বাচন কমিশন বলে রাজনৈতিক মহলের অভিমত। আর তার জেরেই দেশজুড়ে ভোটার তালিকায় এই গরমিলের বিষয়টি যাতে রাজনৈতিক ইস্যু হিসেবে মাথা চাড়া দিতে না পারে সেজন্যই কোমর বেঁধে ভূত তাড়াতে তৎপর হয়েছে কমিশন। কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অধিকর্তা অনুজ চন্দক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন ৩১ মার্চের মধ্যে দেশজুড়ে ৪ হাজার ৭১৯টি এ ধরনের বৈঠক বা আলোচনাসভা এবং প্রশিক্ষণ কর্মশালা করা হয়েছে যার মধ্যে রাজ্যস্তরে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরের উদ্যোগে হয়েছে ৪০টি, জেলাশাসক বা ডিইওদের তত্ত্বাবধানে ৮০০ টি, ইআরও দের তত্ত্বাবধানে ৩ হাজার ৮৭৯ টি এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। দেশজুড়ে যেখানে ২৮ হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের অধিকর্তা অনুজ চন্দক।
প্রসঙ্গত, গত ৪ এবং ৫ মার্চ দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার সব রাজ্যের সিইও বা মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন গোটা দেশের সমস্ত ডিইও এবং পি আর ও বা ইলেকশন রেজিস্ট্রেশন অফিসররাও। সেই বৈঠকেই দেশজুড়ে ভোটার তালিকা সম্বন্ধেও যাবতীয় অভিযোগ বা ইস্যুগুলিকে দ্রুত রাজনৈতিক স্তরে আলাপ আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ভিত্তিতে সমাধান কড়া নির্দেশ দিয়েছিলেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। শীঘ্রই পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার কালীগঞ্জ বিধানসভা সহ দেশের মোট আটটি বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নদিয়া সহ এই বিধানসভা কেন্দ্রগুলির সংশ্লিষ্ট জেলাগুলি থেকে ইতিমধ্যেই ভোটার তালিকা নিয়ে বিস্তর অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। সিনিয়র সিটিজেন বয়স্ক নাগরিকদের নতুনভাবে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করানো হচ্ছে নদীয়া জেলা জুড়ে ইতিমধ্যেই অভিযোগে সরম হয়েছে বিরোধী দলগুলি। পাশাপাশি ভুও ভোটার বা ভুতুড়ে ভোটার এবং ডুপ্লিকেট এপিক কার্ড নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য স্তরে তো বটেই সরব হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয় কংগ্রেস দক্ষিণ ভারতের ডিএমকে, ওড়িশার বিজু জনতা দল, দিল্লি ও পাঞ্জাবের আম আদমি পার্টি, উত্তরপ্রদেশের সমাজবাদী পার্টি, ঝাড়খন্ড মুক্তি মোর্চা সহ বিভিন্ন কেন্দ্র বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি এই ইস্যুতে একজোট হয়েছে। এই সমস্ত বিষয় মাথায় রেখে রাজনৈতিক চাপ এবং অবাধ ও সুস্থ নির্বাচনের লক্ষ্যে ভোটারদের সাংবিধানিক অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে দেশজুড়ে এ ধরনের রাজ্যের আয়োজন করেছে নির্বাচন কমিশন। যদিও কমিশনের এই মেগা উদ্যোগে ভোটার তালিকা নিয়ে যে বিতর্ক ইতিমধ্যেই জাতীয় রাজনৈতিক ইস্যু তৈরি করেছে তাতে কতটা চিরে ভিজবে তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাজনৈতিক দলগুলি।
