পাথরপ্রতিমার মর্মান্তিক বিস্ফোরণে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত। প্রশাসনের তরফে বারবার সাবধানবাণী দেওয়া হলেও, বাজি মজুতের দায়িত্বজ্ঞানহীন প্রবণতা এখনও রোখা যায়নি। এবার ঘটনার নেপথ্যে সচেতনতার অভাবকেই দায়ী করলেন এডিজি সুপ্রতীম সরকার।
ভবানীভবনে সাংবাদিক বৈঠকে এডিজি স্পষ্ট জানান, বাড়ির মধ্যে দাহ্য পদার্থ মজুত রেখে রান্নাবান্নার কাজ করা মানেই বিপদকে আমন্ত্রণ জানানো। তিনি বলেন, “আমি যদি বাড়িতে পেট্রল রাখি আর সেখানে আগুন লাগাই, তাহলে দুর্ঘটনা হবেই। পুলিশের পক্ষে ঘরের ভেতরের সব খবর রাখা সম্ভব নয়। এটা সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।”
বাজি স্টোরেজ যাতে লোকালয়ের মধ্যে না হয়, সেই বিষয়ে বাজি প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলির সঙ্গে শীঘ্রই বৈঠক করবে প্রশাসন। পাশাপাশি, এডিজি জানান, ২০২২ সালে চন্দ্রকান্ত বণিককে গ্রেফতার করা হয়েছিল, তার কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছিল ৬৮.৫ কেজি বাজি। এবার তাঁর বিরুদ্ধে আরও একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২৮৭, ২৮৮ (অবহেলায় দাহ্য পদার্থ ব্যবহার), ১০৫, ১১০ (খুনের চেষ্টার মামলা), ১২৫, ৬১ ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ফায়ার সার্ভিস অ্যাক্ট ৯৫০-এর ২৪, ২৫ ধারাও প্রযোজ্য।
এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, ঢোলাহাট থানার পুলিশ চন্দ্রকান্ত বণিকের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা নিত। যদিও, এ বিষয়ে এডিজি বলেন, অভিযোগ করলেই হবে না, লিখিত অভিযোগ জমা পড়লেই তদন্ত হবে।
ঘটনায় বিধায়ক সমীর জানার ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। TV9 বাংলার কাছে বিধায়ক জানান, শুনেছি লাইসেন্স ছিল। ওরা বহুদিন ধরে বাজি বিক্রি করত। আমার ছেলে হোক বা অন্য কেউ, ছোটখাটো বাজি ওখান থেকেই সংগ্রহ করত।
প্রশ্ন একটাই— প্রশাসনের নাকের ডগায় কীভাবে বছরের পর বছর চলল এই বেআইনি বাজির কারবার? পুলিশের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা না কি একাংশের মদতে বেড়েই চলেছে বিপদ? তদন্ত শুরু হলেও, বিস্ফোরণের বলি হওয়া পরিবারগুলির আর্তনাদই এই প্রশ্নের উত্তরে কাঁপিয়ে দিচ্ছে গোটা পাথরপ্রতিমাকে।
